আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতে সোনা চোরাচালানের বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য পেল ডিরেক্টরেট অব রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স। ‘অপারেশন ধাহাবু ব্লিটজ’ নামে বিশেষ অভিযানে ২৯.৩৭ কেজি সোনা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩৭.৭৪ কোটি। এই ঘটনায় মোট ২৪ জন মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রক।


সূত্রের খবর, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একটি বিশেষ দল ৮ এপ্রিল মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নজরদারি চালায়। সেখানে নাইরোবি থেকে আগত একদল মহিলা যাত্রীকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তদন্তে জানা যায়, এঁরা প্রত্যেকেই একটি সংগঠিত চোরাচালান চক্রের ‘ক্যারিয়ার’ হিসেবে কাজ করছিলেন এবং বিপুল পরিমাণ সোনা দেশে আনার চেষ্টা করছিলেন।


অর্থ মন্ত্রকের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অভিযানের সময় ২৪ জন বিদেশি মহিলাকে আটক করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে মোট ২৫.১০ কেজি সোনার বার এবং ৪.২৭ কেজি সোনার গয়না উদ্ধার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ২৯.৩৭ কেজি সোনা বাজেয়াপ্ত করা হয়, যা এই ধরনের অভিযানের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে।


তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, এই চক্রটি অত্যন্ত সুসংগঠিত এবং পরিকল্পিতভাবে কাজ করছিল। ধৃত মহিলাদের বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল যাতে তাঁরা দক্ষতার সঙ্গে সোনা লুকিয়ে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে পারেন। তাঁদের শরীরের বিভিন্ন অংশে ও লাগেজে অত্যন্ত কৌশলে সোনা গোপন করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।


এক আধিকারিক জানান, “এই মহিলারা শুধুমাত্র বাহক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিলেন। তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল কীভাবে নিরাপত্তা তল্লাশি এড়িয়ে যেতে হয়। এটি একটি বড় আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের ইঙ্গিত দেয়, যারা সংগঠিতভাবে এই কাজ চালাচ্ছে।”


ধৃতদের আদালতে পেশ করা হবে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি, এই চক্রের মূল হোতাদের ধরতে আরও গভীর তদন্ত শুরু হয়েছে। গোয়েন্দারা এখন এই চক্রের আন্তর্জাতিক যোগসূত্র খতিয়ে দেখছেন এবং কীভাবে এই নেটওয়ার্ক কাজ করে তা বোঝার চেষ্টা করছেন।


অর্থ মন্ত্রক জানিয়েছে, এই ধরনের চোরাচালান দেশের অর্থনৈতিক ও আর্থিক ব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি। অবৈধভাবে সোনা আমদানি করলে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হয় এবং বৈধ বাণিজ্য ব্যবস্থায় প্রভাব পড়ে। তাই এই ধরনের অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।


বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা এবং চোরাচালান চক্র ভেঙে দিতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভবিষ্যতেও এধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

 

&t=546s
এই ঘটনায় আবারও স্পষ্ট হয়ে গেল, আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রগুলি কতটা সংগঠিতভাবে কাজ করছে এবং তাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলির তৎপরতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।