আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রতি একটি ভিডিও দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল, যেখানে এক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করা যায় অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর এবং প্রায় জড় পদার্থের মতো অবস্থায়। বেঙ্গালুরুর রাস্তায় এমন দৃশ্য দেখে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে দাবি করতে শুরু করেন যে, শহরে হয়তো তথাকথিত 'জম্বি ড্রাগ'-এর প্রবেশ ঘটেছে। তবে এই চাঞ্চল্যকর বিষয়টিতে ইতি টেনেছে বেঙ্গালুরু পুলিশ। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ওই ব্যক্তির শরীরে কোনও  ধরনের মাদক বা নেশাজাতীয় দ্রব্যের অস্তিত্ব মেলেনি।

পুরো বিষয়টি শুরু হয় যখন ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর ইয়ালাহাঙ্কার নিট্টে মীনাক্ষী ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির কাছে ওই ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করে বাগানুর থানার পুলিশ। স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ছড়াতে থাকায় পুলিশ দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বিস্তারিত মেডিকেল পরীক্ষার জন্য পাঠায়। ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল, ওই ব্যক্তি কোনও  প্রতিক্রিয়া ছাড়াই দীর্ঘক্ষণ একভাবে দাঁড়িয়ে আছেন, যা সাধারণ মানুষের মনে সিন্থেটিক ড্রাগ ব্যবহারের সন্দেহ তৈরি করেছিল।

মেডিকেল রিপোর্ট হাতে আসার পর পুলিশ জানায়, ওই ব্যক্তির এই অস্বাভাবিক আচরণের পেছনে কোনও  ভয়ঙ্কর মাদক ছিল না। প্রকৃতপক্ষে, তিনি দীর্ঘস্থায়ী হাড়ের ব্যথা বা আর্থ্রাইটিসে ভুগছিলেন। ব্যথানাশক ওষুধের পাশাপাশি তিনি মদ্যপান করেছিলেন, যার প্রভাবেই তাঁর শরীরে এমন মারাত্মক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় এবং তিনি সাময়িকভাবে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

অনুসন্ধানে পুলিশ আরও জানতে পেরেছে যে, ওই ব্যক্তি কাজের খোঁজে মাস তিনেক আগে বেঙ্গালুরুতে এসেছিলেন এবং তখন থেকেই সেখানে বসবাস করছেন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সাধারণ মানুষের কাছে একটি কড়া বার্তাও দিয়েছে। তারা সাফ জানিয়েছে যে, সোশ্যাল মিডিয়ায় যাচাই না করে কোনও  তথ্য বা গুজব ছড়ানো উচিত নয়। এতে অহেতুক আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মানহানি ঘটে।

পুলিশ প্রশাসন পুনর্বার নিশ্চিত করেছে যে মাদকের বিরুদ্ধে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি বজায় রয়েছে। কোনও  সন্দেহজনক ঘটনা দেখলে সেটি সরাসরি পুলিশকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, তথাকথিত ‘জম্বি ড্রাগ’ আসলে কোনও  বৈজ্ঞানিক নাম নয়। মূলত জাইলাজিন নামক পশুর ঘুমের ওষুধ ব্যবহারের ফলে মানুষের মধ্যে যে অসাড়তা দেখা দেয়, তাকেই সংবাদমাধ্যমে এই নামে অভিহিত করা হয়। বেঙ্গালুরুর ঘটনায় এমন কোনও  বিপজ্জনক রাসায়নিকের যোগসূত্র পাওয়া যায়নি বলে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।