আজকাল ওয়েবডেস্ক: শুক্রবার লেবাননের পরিস্থিতি, বিশেষ করে বিপুল সংখ্যক অসামরিক নাগরিক হতাহতের খবর নিয়ে ভারত গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সাম্প্রতিক ঘটনাবলিকে "অত্যন্ত উদ্বেগজনক" হিসেবে অভিহিত করেছে নয়াদিল্লি। ইজরায়েল, লেবাননে নতুন করে হামলা চালিয়ে ২৫০ জনেরও বেশি মানুষকে হত্যা করার ঠিক একদিন পরেই ভারতের পক্ষ থেকে এই প্রতিক্রিয়া দেওয়া হল।

ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, "লেবাননে বিপুল সংখ্যক অসামরিক নাগরিক হতাহতের খবরে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।"

রাষ্ট্রসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন বাহিনীতে (UNIFIL) সৈন্য প্রেরণকারী দেশ হিসেবে ভারতের ভূমিকার কথা তুলে ধরে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র আরও বলেন, "UNIFIL-এ সৈন্য প্রেরণকারী দেশ হিসেবে (যারা লেবাননের শান্তি ও নিরাপত্তার বিষয়ে গভীরভাবে সম্পৃক্ত) ঘটনাবলির বর্তমান গতিপথ আমাদের কাছে অত্যন্ত উদ্বেগজনক।"

ভারতের দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জয়সওয়াল বলেন, "ভারত সর্বদা অসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এসেছে। আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া অপরিহার্য।"

সরকারের পক্ষ থেকে এও নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে যে, ওই অঞ্চলে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। রণধীর জয়সওয়াল বলেন, "লেবাননে অবস্থিত আমাদের দূতাবাস সেখানকার ভারতীয় সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে তাদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রেখে চলেছে।"

উপসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের জ্বালানি কূটনীতির প্রসার এবং প্রধান সরবরাহকারীদের সঙ্গে সম্পর্কে শান

জয়সওয়াল আরও জানান যে, পশ্চিম এশিয়ার ঘটনাবলির ওপর নিবিড় নজর রাখার পাশাপাশি ভারত তার নিজস্ব জ্বালানি চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করছে। তিনি বলেছেন, "আমরা পশ্চিম এশিয়ার ঘটনাবলির ওপর নিবিড় নজর রাখছি। উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায়, আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে মন্ত্রীরা বর্তমানে উপসাগরীয় দেশগুলো সফর করছেন।"

তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারতের বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বর্তমানে মরিশাস সফরে রয়েছেন এবং আগামী ১১ ও ১২ এপ্রিল (২০২৬) তারিখে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরশাহী সফর করবেন। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র বলেন, "ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি মধ্যকার সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে তিনি আমিরশাহির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করবেন।"

আঞ্চলিক পর্যায়ে ভারতের সহায়তা প্রদানের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে জয়শওয়াল আরও বলেন, "আমরা যেমন আমাদের নিজস্ব জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি, ঠিক তেমনই আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর অনুরোধে তাদের জ্বালানি চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রেও আমরা সহায়তা প্রদান করছি। মাত্র দুই সপ্তাহ আগেই আমরা শ্রীলঙ্কায় ৩৮ মেট্রিক টন পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহ করেছি।" তিনি আরও বলেন, “আমরা তেল ও গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যে একটি আন্তঃরাষ্ট্রীয় চুক্তি চূড়ান্ত করার পর্যায়ে রয়েছি, যা মরিশাসের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”

কাতারের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনি উল্লেখ করেন, “আমাদের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী ৯ ও ১০ এপ্রিল কাতার সফর করছেন। বর্তমানে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন। ভারতের জন্য কাতার জ্বালানির একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।”

জায়সওয়াল আরও জানান যে, “কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী একটি নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহকারী হিসেবে পাশে থাকার বিষয়ে জানিয়েছেন এবং ভারতের সঙ্গে জ্বালানি সম্পর্ক ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখা ও তা আরও জোরদার করার ব্যাপারে আশার কথা শুনিয়েছেন।”