আজকাল ওয়েবডেস্ক: এক চরম অন্ধবিশ্বাসের সাক্ষী থাকল মধ্যপ্রদেশের মোরেনা জেলা। দেবীর চরণে নিজের জিভ উৎসর্গ করলেন ৪৫ বছর বয়সি এক মহিলা! বুধবার বিকেলে পোরসা থানার তারসামা গ্রামের বিজাসেন মাতা মন্দিরে এই রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। গুরুতর আহত ওই মহিলার নাম গুড্ডি তোমার। বর্তমানে তিনি মোরেনা জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, গুড্ডি দেবী দুর্গার একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলেন। তাঁর স্বামী রবি তোমার জানান, বিয়ের পর থেকেই প্রতিদিন নিয়ম করে সকালে ও সন্ধ্যায় গ্রামের ওই মন্দিরে পুজো দিতে যেতেন গুড্ডি। তাঁদের তিন সন্তানও রয়েছে। বুধবার দুপুরে যখন তিনি মন্দিরে প্রার্থনা করছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই হঠাৎ একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে নিজের জিভ কেটে দেবীর মূর্তির সামনে নিবেদন করেন তিনি। রক্তাত্ব অবস্থায় কিছুক্ষণের মধ্যেই মন্দিরের চাতালে জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়েন তিনি। এই দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন মন্দিরে উপস্থিত অন্যান্য পুণ্যার্থীরা।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পোরসা থানার পুলিশ। পুলিশ আধিকারিক অতুল সিং জানান, উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় তড়িঘড়ি ওই মহিলাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, স্রেফ অন্ধবিশ্বাস এবং গভীর ধর্মীয় আবেগ থেকেই এমন চরম পদক্ষেপ নিয়েছেন ওই মহিলা। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।
গ্রামবাসীদের দাবি, এই মন্দিরে এমন ঘটনা নতুন কিছু নয়। অতীতেও অন্তত তিনবার বিভিন্ন মেয়েদের জিভ কেটে উৎসর্গ করার ঘটনা ঘটেছে এই চত্বরেই। স্থানীয়দের বিশ্বাস, অতীতে যারা এমন কাজ করেছিলেন তারা নাকি কোনও চিকিৎসা ছাড়াই অলৌকিকভাবে সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালেও ছত্তিশগড়ের রায়গড় জেলায় এক ১১ বছরের কিশোরী শিবের পায়ে নিজের জিভ উৎসর্গ করেছিল। বারবার সচেতনতা প্রচার সত্ত্বেও আধুনিক যুগে দাঁড়িয়ে এহেন ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং কুসংস্কারের পুনরাবৃত্তি সমাজ ও প্রশাসনের কাছে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিচ্ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে ওই মহিলার অবস্থা স্থিতিশীল হলেও তাঁর আঘাত যথেষ্ট গভীর।















