বিশ্বজুড়ে রহস্যময় ভবিষ্যদ্বাণীর জন্য পরিচিত বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যৎবাণী আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহলে দাবি করা হচ্ছে, ২০২৬ সালে নাকি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো ভয়াবহ সংঘাত শুরু হতে পারে।
2
8
একইসঙ্গে এই ভবিষ্যদ্বাণীতে চীনের উত্থান এবং পুতিনের রাজনৈতিক পতনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি। ফলে বিষয়টি নিয়ে ফের তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা।
3
8
বাবা ভাঙ্গা, যিনি ‘নস্ত্রাদামুস অব দ্য বালকানস’ নামেও পরিচিত, তাঁর জীবদ্দশায় বহু ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন বলে বিশ্বাস করা হয়। তাঁর কিছু ভবিষ্যদ্বাণী—যেমন ৯/১১ হামলা বা ব্রেক্সিট—ঘিরে বিতর্ক থাকলেও অনেকেই দাবি করেন, তিনি ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলি আগেই ইঙ্গিত করেছিলেন। সেই সূত্র ধরেই ২০২৬ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
4
8
বলা হচ্ছে, তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক উত্তেজনা একসময় বড় আকারের সংঘাতে রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি—যেখানে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে শক্তির লড়াই—এইসব বিষয়কে অনেকেই সেই ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন।
5
8
চীন প্রসঙ্গে বলা হচ্ছে, আগামী কয়েক বছরে তারা আরও দৃঢ় অবস্থান তৈরি করবে। অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও সামরিক শক্তির দিক থেকে চীন ইতিমধ্যেই বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী দেশ। বাবা ভাঙ্গার কথিত ভবিষ্যদ্বাণীতে নাকি বলা হয়েছে, একটি বড় সংঘাতের পরে চীন বিশ্ব রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করতে পারে।
6
8
অন্যদিকে, পুতিনকে ঘিরেও নানা জল্পনা রয়েছে। কিছু ব্যাখ্যায় দাবি করা হচ্ছে, তাঁর নেতৃত্বে রাশিয়ার বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান বড় ধরনের পরিবর্তনের মুখে পড়তে পারে। যদিও এই দাবিগুলির কোনও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই, তবুও আন্তর্জাতিক রাজনীতির জটিল পরিস্থিতির কারণে এই বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা বাড়ছে।
7
8
তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ সতর্ক করে দিচ্ছেন—এই ধরনের ভবিষ্যদ্বাণীকে সরাসরি সত্য বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়। ইতিহাস বলছে, বাবা ভাঙ্গার অনেক ভবিষ্যদ্বাণীই পরে মানুষের ব্যাখ্যার মাধ্যমে জনপ্রিয় হয়েছে, যেগুলির প্রকৃত উৎস বা প্রমাণ স্পষ্ট নয়। তাই এগুলিকে মূলত লোকবিশ্বাস বা সাংস্কৃতিক আগ্রহের অংশ হিসেবেই দেখা উচিত।
8
8
সব মিলিয়ে, ২০২৬ নিয়ে বাবা ভাঙ্গার কথিত ভবিষ্যদ্বাণী নতুন করে আলোড়ন তৈরি করলেও বাস্তবতার নিরিখে বিষয়টি এখনও অনিশ্চিত। তবে বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি যেভাবে বদলাচ্ছে, তাতে ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ ও কৌতূহল—দুটিই সমানভাবে বাড়ছে।