আজকাল ওয়েবডেস্ক: রবিবার মরুশহরে এশিয়া কাপ ক্রিকেটের সুপার ফোরে পাকিস্তানকে ধরাশায়ী করে ভারত। সোমবার অনূর্ধ্ব ১৭ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের ছেলেরা ৩-২ গোলে মাটি ধরাল পাকিস্তানকে।
এক দিনের ব্যবধানে ক্রিকেট ও ফুটবলে ভারতের 'দাদাগিরি' অব্যাহত রইল। ক্রিকেটে দুবাইয়ে। আর ফুটবলে কলম্বোয় ভারতের দাপট অব্যাহত থাকল।
দুই প্রতিবেশি দেশ আগেই সেমিফাইনালের ছাড়পত্র জোগাড় করে ফেলেছে। প্রথম দুটো ম্যাচেই জয় পেয়েছে ভারত ও পাকিস্তান। কেউই গ্রুপে দ্বিতীয় হতে রাজি নয়। মাঠে তারই প্রতিফলন ঘটল। ৩১ মিনিটে ভারতকে এগিয়ে দেন গাংতে। ভারত বেশিক্ষণ লিড ধরে রাখতে পারেনি। গোল করার ১২ মিনিট পরেই পেনাল্টি থেকে সমতা ফেরায় পাকিস্তান। স্পট কিক থেকে গোলটি করেন আবদুল্লা। বিরতির সময় খেলার ফল ছিল ১-১।
বিরতির পরে বিবিয়ানো ফার্নান্দেজের দল অ্যাডভান্টেজ পায়। শুভম পুনিয়ার দৌড়ে পাকিস্তান রক্ষণ কেঁপে যায়। তাঁর বাড়ানো বল থেকে গোল করে ভারতকে এগিয়ে দেন গুণলেইবা। খেলা তখন ৬৩ মিনিট গড়িয়েছে। এর সাত মিনিট বাদেই পাকিস্তান ফের সমতা ফেরায়। দু' বার পিছিয়ে থেকে পাকিস্তান ম্যাচে ফিরে আসে। ৭৪ মিনিটে ভারতের রাহান আহমেদ গোল করে ৩-২ করেন।
ভূটানের বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচে রাহান গোল করেছিলেন। সেই তিনিই এবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতকে রক্ষা করেন। পাকিস্তানকে হারানোর ফলে ভারত গ্রুপে শীর্ষে রইল। মালদ্বীপকে ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত করে ভারত। অন্য ম্যাচে ভারত ১-০ গোলে হারায় ভূটানকে। এদিন পাকিস্তানকে তুল্য মূল্য ম্যাচে হারায় ভারত। চলতি মাসের ২৫ তারিখ শেষ চারে ভারতের সামনে বাংলাদেশ।
দুবাইয়ের সুপার ফোরের লড়াইয়ে পাকিস্তানকে একাই হারিয়ে দেন অভিষেক শর্মা। পাকিস্তানের রান তাড়া করতে নেমে প্রথম বল থেকেই তিনি আক্রমণের রাস্তা নেন। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ১৭১ খুব একটা খারাপ স্কোর নয়। পাকিস্তান প্রথমে ব্যাট করে তুলেছিল ৫ উইকেটে ১৭১ রান। সেই রান তাড়া করতে নেমে ভারত দাদাগিরি দেখাল। অভিষেক শর্মা ও শুভমান গিলের ব্যাট শুরু থেকেই চলতে শুরু করল। শাহিন আফ্রিদিকে প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে অভিষেক রান তাড়া শুরু করেছিলেন। খেলা যত এগোল ভারতের দুই ওপেনার ততই মারমুখী ব্যাটিং শুরু করে দিলেন। অভিষেক শর্মা ও শুভমান গিলের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ধুয়ে গেল পাক বোলিং আক্রমণ। ৯.৫ ওভারেই ভারত ১০৫ করে ফেলে। শুভমান গিল ৪৭ রানে আশরাফের বলে বোল্ড হন। তার আগে অবশ্য চোট পান গিল।
তাতে ছন্দ নষ্ট হয়। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব খাতা না খুলেই ফেরেন। ভারত দ্রুত গিল ও সূর্যের উইকেট হারায়। ১০৫ রানে এক উইকেট থেকে ১০৬ রানে ২ উইকেট হয়ে যায়। তাতেও দমে যাননি অভিষেক। তিনি রুদ্রমূর্তি ধরেন। নাগাড়ে আক্রমণ করে যান পাক বোলারদের। পাক বোলাররা কোথায় বল ফেলবেন তাই বুঝে উঠতে পারছিলেন না। শেষমেশ আবরারের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। যাওয়ার আগে ৩৯ বলে ৭৪ করে যান তিনি। ৬টি চার ও পাঁচটি ছক্কা মারেন তিনি। আউট হওয়ার আগের বলেই ছক্কা মেরেছিলেন অভিষেক। পরের বলেও মারতে গিয়ে ডাগ আউটে ফেরেন। বাকি কাজটা সারেন তিলক (১৯ বলে ৩০*) ও হার্দিক (৭*)। ৭ বল বাকি থাকতে ছয় উইকেটে ভারত ম্যাচ জেতে। একটা সময়ে মনে হচ্ছিল পাকিস্তান বোধহয় লড়াইয়ে ফিরে এসেছে। কিন্তু অভিষেক ও গিল যে মঞ্চে ভারতকে বসিয়ে দিয়ে যান, তাতে ম্যাচ জেতা ছিল কেবল সময়ের অপেক্ষা।
আরও পড়ুন: 'ওকে বোলাররা ভয় পায়', ভারতের এই তারকা ক্রিকেটারকে ঢালাও সার্টিফিকেট দিলেন শেহবাগ
