'ইরান ছাড়ুন এখনই', নিজের দেশের নাগরিকদের জরুরি বার্তা দিয়ে দিল আমেরিকা, জানিয়ে দিল উপায়ও

US Warns its citizens
'ইরান ছাড়ুন এখনই', দেশের নাগরিকদের বার্তা আমেরিকার। গ্রাফিক: আজকাল ডট ইন।

আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তপ্ত ইরান। চলছে বিক্ষোভ। সেখানে চলতে থাকা ব্যাপক সরকার বিরোধী বিক্ষোভের আবহে নজর ছিল আমেরিকার অবস্থানের দিকে। তার মাঝেই বড় তথ্য সামনে। সূত্রের খবর, সোমবার আমেরিকা একটি নির্দেশনা জারি করেছে। তাতে সে দেশের নাগরিকদের উদ্দেশে বার্তা দেওয়া হয়েছে, 'এখনই ইরান ছাড়ুন'। তেহরানের মার্কিন দূতাবাসের তরফ থেকে এই বার্তা দেওয়া হয় সোমবার। সতর্কবার্তা এবং নির্দেশনায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রয়োজনে আমেরিকার নাগরিকরা স্থলপথে কোন দুই দেশ হয়ে আমেরিকা থেকে ফিরবেন ইরানে। 

 

সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, প্রতিবাদ বিক্ষোভ যে কোনও মুহূর্তে যে কোনও আকার নিতে পারে। ফলাফল স্বরূপ গ্রেপ্তারি, জখম হওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে প্রতিনিয়ত। রাস্তা বন্ধ, গণপরিবহন ব্যহত। মোবাইল, ল্যান্ডলাইন, ইন্টারনেট ব্যবহারও নানা জায়গায় পরিষেবা সীমিত করা হয়েছে। ইরান থেকে উড়ানের বিমান হয় পরে চলছে কিংবা বাতিল। আর্মেনিয়া এবং তুরস্কের পথ ধরে ইরান ছেড়ে আসার কথা জানিয়েছে আমেরিকা।  

 

এর আগে, রবিবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের নেতৃত্বাধীন সরকার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং আলোচনায় বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

ট্রাম্প বলেন, 'ইরানের নেতারা গতকাল ফোন করেছিলেন'। তাঁর কথায়, 'একটা বৈঠকের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ওরা আলোচনা করতে চায়।' তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প স্পষ্ট করে দেন, আলোচনায় বসার আগেই যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হতে পারে। তিনি বলেন, 'আমাদের হয়তো বৈঠকের আগেই কাজ করতে হবে।'

 

ট্রাম্পের অভিযোগ, ইরানে বিক্ষোভ দমনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হচ্ছে এবং এমন মানুষও মারা পড়ছেন, যাদের মরার কথা নয়। ইরানের শাসকদের নিয়ে কড়া ভাষায় মন্তব্য করে তিনি বলেন, 'এরা কি আদৌ নেতা? নাকি শুধু হিংসার জোরে শাসন চালায়?' এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন কয়েক দিন আগেই ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে এক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তার হাতে এক ৩৭ বছরের মহিলার  মৃত্যুর ঘটনাকে সমর্থন করেছিল।