আজকাল ওয়েবডেস্ক: ‘কুইক কমার্স’ প্রতিযোগিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গত কয়েক বছর ধরে “১০ মিনিটে ডেলিভারি” ছিল ব্লিঙ্কিটের সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড-পরিচয়। কিন্তু সরকারী হস্তক্ষেপ ও গিগ কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় এবার সেই ব্র্যান্ডিং বদলানোর পথে কোম্পানি। ইন্ডিয়া টুডে সূত্রে খবর, ব্লিনকিট তাদের সমস্ত বিজ্ঞাপন, ক্যাম্পেইন ও সোশ্যাল মিডিয়া থেকে “১০ মিনিটে ডেলিভারি” সংক্রান্ত তথ্য তুলে দেবে।
এই সিদ্ধান্ত করা হল এমন সময় যখন ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে বিভিন্ন ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মে কর্মরত গিগ ও ডেলিভারি কর্মীরা দেশজুড়ে ধর্মঘট ডাকে। তারা অভিযোগ তোলেন সুরক্ষাহীন কাজের পরিবেশ, সময়ের চাপ, উপার্জন কমে যাওয়া এবং পর্যাপ্ত সামাজিক সুরক্ষা না পাওয়ার বিরুদ্ধে। এই পরিস্থিতিতে ইউনিয়নের তরফে শ্রম মন্ত্রকের কাছে অভিযোগ পৌঁছায় এবং বিষয়টি সরকারি স্তরে গুরুত্ব পায়।
এই পরিবর্তনের পিছনে বড় ভূমিকা রয়েছে কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্যার। তিনি বিভিন্ন ফুড ডেলিভারি ও কুইক কমার্স প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে বৈঠকে স্পষ্ট মত দেন—ব্র্যান্ডিংয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমার প্রতিশ্রুতি থাকলে তা ডেলিভারি কর্মীদের ওপর চাপ বাড়াতে পারে, যা তাদের নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ায়। যদিও কোম্পানিগুলো দাবি করে থাকে যে দ্রুত ডেলিভারি ‘স্পিড ড্রাইভিং’-এর ওপর নির্ভর করে না, বরং গোডাউন ও ডার্ক স্টোরের কাছাকাছি ডেলিভারি নেটওয়ার্কের ডিজাইনের ফলে সময় কম লাগে। তবুও শ্রম মন্ত্রকের মতে, এমন প্রতিশ্রুতি বিপজ্জনক মানসিকতার হার বাড়াতে পারে।
গিগ কর্মীদের প্রধান দাবি ছিল প্ল্যাটফর্মগুলো দ্রুত ডেলিভারির নামে উপার্জন কমাচ্ছে, রুট পরিবর্তন করছে, কাজের চাপ বাড়াচ্ছে এবং কোনও সামাজিক সুরক্ষা বা বীমা সুবিধা পর্যাপ্তভাবে দিচ্ছে না। ডিসেম্বর ২৫ ও ডিসেম্বর ৩১—এই দুই দিন দেশজুড়ে ধর্মঘট ডাকার পর বিষয়টি বড় আকারে আলোচনায় আসে। যদিও নতুন বছরের আগের রাতেও বহু শহরে ডেলিভারি স্বাভাবিক গতিতে চলেছে বলে দেখা যায়, তবুও এই প্রতিবাদ জনমতকে বিষয়টির দিকে টেনে আনে।
এই প্রেক্ষাপটে ব্লিঙ্কিট ছাড়াও জোমাটো, সুইগি সহ সব বড় প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারের বৈঠক হয়। বৈঠকে শ্রম মন্ত্রী কোম্পানিগুলোকে স্পষ্টভাবে জানান—ব্র্যান্ডিং ও বিজ্ঞাপন থেকে নির্দিষ্ট মিনিটে ডেলিভারি সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি তুলে নিতে হবে। বৈঠকের শেষে সব কোম্পানি সরকারকে আশ্বস্ত করে যে তারা বিজ্ঞাপন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন সময়-নির্ভর বার্তা তুলে দেবে না।
তবে এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল ব্র্যান্ডিং বদলানো মানে ডেলিভারির গতি কমে যাওয়া নয়। ব্লিনকিট এখনও যেমনভাবে তার ডার্ক স্টোর নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে, তা দ্রুত ডেলিভারি সম্ভব রাখবে।
এই পদক্ষেপ কেবলমাত্র সরকারের চাপের প্রতিফলন নয়, বরং দ্রুত বাণিজ্যের পরবর্তী পর্যায়ে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার মাঝেও কোম্পানিগুলো এখন নিরাপত্তা, শ্রম-নীতির প্রশ্নে আরও সতর্ক অবস্থান নিতে বাধ্য হচ্ছে।
