আজকাল অনেকেই হঠাৎ তীব্র মানসিক অস্থিরতার শিকার হন। আধুনিক জীবনের চাপ, কর্মব্যস্ততা আর অনিশ্চয়তার ভিড়ে কমবয়সিদের মধ্যেও এই সমস্যা দেখা যাচ্ছে। যা সাধারণত উদ্বেগ আর প্যানিক অ্যাটাক হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু অনেকেই এই দুইয়ের পার্থক্য শনাক্ত করতে পারেন না। ফলে আচমকা কারওর প্যানিক অ্যাটাক হলে বুঝতে দেরি হয়ে যায়। এমনকী প্যানিক অ্যাটাকের ফলে প্রাণ সংশয়েরও ঝুঁকি থাকে।
উদ্বেগ কী
উদ্বেগ হল দীর্ঘস্থায়ী চিন্তা, ভয় বা অস্থিরতা। এটি হঠাৎ না এসে ধীরে ধীরে বাড়ে। আক্রান্ত ব্যক্তি অস্বাভাবিকভাবে চঞ্চল হতে পারেন। ভিড় এড়িয়ে চলতে চান। এক্ষেত্রে রোগী একই কথা বারবার বলতে পারেন বা অতিরিক্ত ব্যস্ত মনে হতে পারেন। অনেকটা মানসিক চাপের মতো, যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলেও দীর্ঘস্থায়ী হলে কষ্টকর হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুনঃ মুড়ি-মুড়কির মতো পেনকিলার খান? ঝাঁঝরা হয়ে যাচ্ছে না তো শরীর! এই ভয়ঙ্কর পরিমাণ জানলে শিউরে উঠবেন
প্যানিক অ্যাটাক কেমন হয়
প্যানিক অ্যাটাক হল হঠাৎ বজ্রপাতের মতো তীব্র মানসিক ও শারীরিক প্রতিক্রিয়া। এটি সাধারণত ১০–১৫ মিনিটের মধ্যে চরমে ওঠে এবং এক ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। প্যানিক অ্যাটাকে আক্রান্ত ব্যক্তি ভীষণ ভয় পেয়ে যেতে পারেন এবং তিনি হয়তো মারা যাচ্ছেন বলেও ভয় পেতে পারেন। এর উপসর্গগুলো অনেক সময় হার্ট অ্যাটাকের মতো মনে হতে পারে। যেমন—
• শ্বাসকষ্ট বা দম বন্ধ লাগা
• ঘাম হওয়া
• হাত কাঁপা
• হৃদস্পন্দন দ্রুত বেড়ে যাওয়া
• মাথা ঘোরা বা ভারী লাগা
• বুকে চাপ বা অস্বস্তি

জনসমক্ষে কারও প্যানিক অ্যাটাক হলে কী করবেন
১. শান্ত থাকুনঃ আক্রান্তকে জোরে বা আতঙ্কিত কণ্ঠে কিছু বলবেন না। মৃদু ও ধীর স্বরে আশ্বস্ত করুন।
২. শান্ত পরিবেশে নিয়ে যান – যত দ্রুত সম্ভব ভিড় বা শব্দ থেকে দূরে আক্রান্তকে কোনও শান্ত জায়গায় বসতে দিন।
৩. শ্বাসপ্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করুনঃ রোগীকে ধীরে ধীরে গভীরভাবে শ্বাস নিতে বলুন। প্রয়োজনে তার সঙ্গে গুনতে গুনতে শ্বাস নেওয়া-ছাড়া অনুশীলন করুন।
৪. শরীরিক সংযোগে সচেতন থাকুনঃ সবসময় স্পর্শ করা প্রয়োজন নেই, বরং আগে জিজ্ঞেস করুন তিনি হাত ধরা বা কাঁধে স্পর্শ চান কিনা।
৫. সাহায্য চাইতে বলুনঃ যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বা বারবার ঘটে, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, উদ্বেগ বা প্যানিক অ্যাটাক একেবারে অবহেলা করার মতো নয়। নিয়মিত ধ্যান, যোগব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম আর স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এই সমস্যাকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। তবে যদি সমস্যা ঘন ঘন হয়, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
















