আজকাল ওয়েবডেস্ক: সকালবেলা একজন গৃহসহায়ক এসে গৃহকর্মীর নানান কাজে সাহায্য করছেন। রান্নার কুটনো কেটে দিচ্ছেন অথবা গোটা রান্নাটাই করছেন, ঘর মুছছেন, ময়লা কাপড় জামা কেচে দিচ্ছেন। নির্দিষ্ট সময়ে আসছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমস্ত কাজ গুছিয়ে অন্য আর একটা বাড়িতে চলে যাচ্ছেন। মাসের শেষে একটা নির্ধারিত পারিশ্রমিক পাচ্ছেন। গৃহসহায়তার এই পরিচিত দৃশ্যের সমান্তরালে এখন আরও একটি ছবি খুব স্পষ্ট হয়ে উঠছে। অ্যাপের মাধ্যমে বুক করা হচ্ছে গৃহ সহায়ককে। তিনি আসছেন, নির্দিষ্ট কাজ করছেন, প্রতি ঘন্টার হিসাবে টাকা নিয়ে চলে যাচ্ছেন।

দুই ধরণের গৃহসহায়তাই এখন শহুরে জীবনে স্পষ্ট। পাশাপাশি স্পষ্ট এঁদের মাসিক পারিশ্রমিকের হেরফের। চিরাচরিত গৃহসহায়করা, যাঁরা রোজ আসছেন, কাজ করছেন এবং মাসের শেষে বেতন পাচ্ছেন, তাঁরা দিনে পাঁচ-ছয় বাড়ি কাজ করার পরে মাস শেষে হাতে পান ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে তাদের পরিবারের খাওয়া-দাওয়া, সন্তানের স্কুল-টিউশনের খরচ, হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তার খরচ সবই সামলাতে হয়। ফলে এই আঁটোসাঁটো উপার্জনের মধ্যে তাঁদের দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। বাড়তে থাকে ধার ও সুদের পরিমাণও। 

উল্টো দিকে ঘন্টার হিসাবে যখন অ্যাপের মাধ্যমে বুকিং আসছে, তখন প্রতি ঘন্টায় অনলাইন গৃহসহায়করা উপার্জন করছেন ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। কী ধরনের কাজ করছেন তিনি, তার উপরে টাকার পরিমাণ নির্ধারিত হয়ে থাকে এক্ষেত্রে। ফলে, দিনে যদি কেউ আট-ন’ ঘন্টা কাজ করেন সেক্ষেত্রে দিনে তাঁদের উপার্জন হচ্ছে ১,৬০০ থেকে ২,৪০০ টাকা পর্যন্ত। অর্থাৎ মাস গেলে তাঁদের হাতে আসছে ৫০ থেকে ৬০ হাজারের আশেপাশে।

একই পেশার সঙ্গে যুক্ত হয়েও, উপার্জনের অঙ্কে এত ফারাক কেন? সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম একজন প্রথাগত গৃহসহায়কের কাছে যখন এই ফারাক জানতে চাইলেন তখন তাঁর বক্তব্য, ‘আমরা কি অত লেখাপড়া জানি? পাঁচ বাড়ি খাটি, তারপর মাসের শেষে খাওয়া পরার টাকা পাই। ফোনও তো চালাতে পারি না। আমরা কী করব বলুন? জানিও না কীভাবে ফোনের মধ্যে অন্যের বাড়ির কাজ খুঁজতে হয়।’ চিরাচরিত শিক্ষার অভাব এবং মোবাইল চালাতে না জানার কারণে মূলত এলাকার মধ্যে নানান বাড়ির কাজের উপরে ভরসা করতে হচ্ছে প্রথাগত গৃহসহায়কদের। 

একজন সাধারণ গৃহস্থের কাছে যখন অনলাইন গৃহসহায়কের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হয়, তখন তাঁর কথায়, ‘আমি আগ্রহী নই। প্রতি ঘন্টায় আসবে, বাসনা মাজার আলাদা টাকা, ঘর মোছার আলাদা, কাচাকুচির আলাদা। এক ঘন্টার একটু বেশি হলেই দু’ঘন্টার পারিশ্রমিক নিয়ে যাবে। এর চেয়ে আমার রোজকার গৃহসহায়কই ভাল। রোজ আসেন, অনেক কাজ করেন, এবং মাসের শেষে একটা মোটামুটি ঠিকঠাক টাকা নেন। আমারও পকেটে টান পড়ে না, কাজও হয়ে যায়।’ 

তাহলে অনলাইনে গৃহসহায়ক বুক করছেন কারা? সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে এইভাবে গৃহসহায়ককে বুক করার প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে। বর্তমান প্রজন্মের কথায়, ‘রোজ তো গৃহসহায়কের প্রয়োজন পড়ে না। কোনও দিন হয়ত আমি খুব ক্লান্ত, তখন ঘরটা ঝাঁট দিয়ে মুছে দেওয়ার জন্য একজনকে বুক করলাম। বা কোনওদিন হয়ত বাড়িতে অতিথি এলেন, রান্নার জন্য ঘন্টা খানেক একজন সহায়ক বুক করলাম। মাসে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা মাত্র খরচ হয়। তার জন্য রোজনামচায় কাউকে কেন রাখব?’ 

সব মিলিয়ে, যাঁরা অফলাইনে কাজ করছেন তাঁদের সমস্যা অফলাইন নয়, তাঁদের মূল সমস্যা না জানা। তাঁরা জানেন না কীভাবে অনলাইনে কাজ খুঁজতে হয়। আর উল্টো দিকে, অনলাইনে উপার্জন করার ফলে নিজের কাজের সময় নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকে, নিজের কাজের পরিমাণও নিয়ন্ত্রণে থাকছে।