গরম পড়লেই তরমুজের চাহিদা বেড়ে যায়। প্রচণ্ড গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে, তেষ্টা মেটাতে এবং শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে তরমুজ দারুণ কাজ করে। কিন্তু গরমের এই প্রাণজুড়নো ফল খেয়েই সম্প্রতি মুম্বইয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৪ জন। খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা পরিবারে। কিন্তু তরমুজ খেলে কি শরীরের এমন মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে? কখন এই ফলের জন্য বিপদ ঘনিয়ে আসতে পারে? আসুন জেনে নেওয়া যাক।
তরমুজের বেশিরভাগটাই জল। এছাড়া এতে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট এবং শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় নানা পুষ্টিগুণও থাকে। তাই অনেকেই ভাবেন, তরমুজ যত বেশি খাওয়া যায় ততই ভাল। কিন্তু আসলে বিষয়টা তা নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত তরমুজ খেলে শরীরের উপকারের বদলে ক্ষতিও হতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা একসঙ্গে অনেকটা তরমুজ খেয়ে ফেলেন, তাঁদের সতর্ক হওয়া দরকার।
প্রথম সমস্যা হতে পারে হজমে। তরমুজে ফ্রুক্টোজ নামে এক ধরনের প্রাকৃতিক চিনি থাকে। এটি বেশি পরিমাণে শরীরে গেলে পেট ফাঁপা, গ্যাস, অম্বল, ডায়রিয়া বা পেটে অস্বস্তি হতে পারে। যাঁদের আগে থেকেই হজমের সমস্যা রয়েছে যেমন গ্যাস, অ্যাসিডিটি বা আইবিএস তাঁদের জন্য ঝুঁকি আরও বেশি।
ডায়াবেটিস রোগীদেরও তরমুজ খাওয়ার সময় পরিমাণের দিকে নজর রাখতে হয়। তরমুজ মিষ্টি ফল এবং এতে প্রাকৃতিক চিনি থাকে। একসঙ্গে অনেকটা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। তাই ডায়াবেটিস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে পরিমিত তরমুজ খাওয়া ভাল।
কিডনির সমস্যায় ভুগছেন যাঁরা, তাঁদেরও বেশি তরমুজ খাওয়া ঠিক নয়। তরমুজে পটাশিয়াম থাকে। সাধারণ মানুষের জন্য এটি ভালো হলেও, কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে শরীরে অতিরিক্ত পটাশিয়াম জমে যেতে পারে। এতে দুর্বল লাগা, হৃদস্পন্দনের সমস্যা বা অন্য জটিলতা দেখা দিতে পারে।
আরও একটি বড় সমস্যা হল ভেজাল তরমুজ। অনেক সময় বাজারে তরমুজকে বেশি লাল, টাটকা আর সুন্দর দেখানোর জন্য কৃত্রিম রং বা রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। বাইরে থেকে দেখে বোঝা যায় না। কিন্তু এমন তরমুজ খেলে পেটের গোলমাল, বমি, খাদ্যে বিষক্রিয়া এমনকি দীর্ঘমেয়াদে শরীরের ক্ষতিও হতে পারে।
তাই তরমুজ কেনার সময় সাবধান থাকা জরুরি। খুব অস্বাভাবিক উজ্জ্বল লাল রং দেখলে সতর্ক হন। বাড়িতে এনে ভেজা টিস্যু দিয়ে তরমুজের শাঁস আলতো ঘষে দেখতে পারেন। যদি রং উঠে আসে, তাহলে সেটি না খাওয়াই ভাল।
তরমুজ সঠিক পরিমাণে খাওয়াই সবচেয়ে ভাল। দিনে ১ থেকে ২ কাপ তরমুজ যথেষ্ট। একসঙ্গে অনেকটা না খেয়ে ভাগ করে খান। পরিষ্কার, টাটকা এবং ভালো মানের ফল বেছে নিন।
মনে রাখবেন, ভাল জিনিসও বেশি হলে ক্ষতি করতে পারে। তরমুজও তার ব্যতিক্রম নয়। তাই গরমে তরমুজ খান, তবে বুঝে-শুনে এবং পরিমিত পরিমাণে।















