জয়ন্ত ঘোষাল
রাজীব গান্ধী ছিলেন পাইলট। হলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী।
প্রাক্তন প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু জনসভায় দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, ও তো পাইলট,ও রাজনীতি কী করবে?
ভোটের সময় রাজনীতিতে মঞ্চে দাঁড়িয়ে কত কথাই তো বলতে হয় !
তাহলে তো আইনজীবী রাজনীতিবিদ হয়, চিকিৎসক ভোটে দাঁড়ায়। এমনকি মাস্টার মশাই থেকে শুরু করে সিনেমার অভিনেতা-অভিনেত্রী সবাই এমএলএ, এমপি হতে পারে। তাহলে সাংবাদিকেরা নয় কেন?
আপনি বলবেন, আইনজীবীদের ব্যাপারটা একটু আলাদা রাখুন। সে তো মতিলাল নেহরু থেকে শুরু করে চিত্তরঞ্জন দাশ, আরে বাবা! মোহন দাস করমচাঁদ গান্ধীর কথাও তো ভোলা যায় না। সুতরাং আইনজীবীর তালিকা অনেক দীর্ঘ। সে তুলনায় সাংবাদিকরা রাজনীতিতে কি নবাগত? না না, তাও বোধহয় নয়। অনেক সাংবাদিককেই দেখেছি কংগ্রেস কিংবা বিজেপির মত বড় দলে আসতে। খুশবন্ত সিং থেকে কুলদীপ নায়ার !
তারপর আঞ্চলিক দলগুলিতেও সাংবাদিকদের অনুপ্রবেশ কম হয়নি।
তবে বঙ্গভূমিতে বোধহয় সাংবাদিকদের ভোটে দাঁড়ানোর সংখ্যা হাতে গোনা। এবার তৃণমূল কংগ্রেসের ভোটার তালিকায় যেমন সাংবাদিক আছেন, তেমন বিজেপির তালিকাতেও সাংবাদিক আছেন। কমিউনিস্টেদের তালিকায় সাংবাদিকদের অনুপ্রবেশ অবশ্য বরাবরই কম। আমরা তো সেই কোন ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি আমরা সব বুর্জোয়া সংবাদপত্রের দালাল।
এবার তৃণমূল কংগ্রেসের নজরকাড়া প্রার্থী হলেন কুণাল ঘোষ। কুণাল রাজনীতিটা যত বছর ধরে করছেন, তার থেকে বেশি সময় বোধহয় সাংবাদিকতা করেছেন। সাংবাদিকতা করতে করতে কখন তিনি রাজনীতিতে এসে গেছেন সেটাই আমরাই ভুলে গেছিলাম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্নেহ সাহচর্যে ধীরে ধীরে তিনি তাঁর ঘনিষ্ঠ হয়েছেন। পরবর্তীকালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হয়েছেন। তাঁর সহজাত সম্পর্ক স্থাপনের দক্ষতায়, নিজের উপযোগিতাকে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন !
নিজের উপযোগিতাকে আসলে সবক্ষেত্রেই প্রতিষ্ঠা করতে হয়। সে কর্পোরেট জগৎ- ই হোক আর সংবাদপত্র জগৎ-ই হোক, আর তা রাজনীতির জগৎ-ই হোক। তা নাহলে রাজ্যসভার সদস্য হওয়া চারটি খানি কথা নয়! প্রতিদিন কাগজের মালিক সংসদ সদস্য হয়েছেন। তাঁর সঙ্গে একই সংবাদপত্রে কাজ করে সাংবাদিক রাজ্যসভার সদস্য হয়েছেন। এও কিন্তু খুব দুর্লভ ঘটনা। একই কাগজ ‘প্রতিদিন’ তার মালিক এবং সাংবাদিক দু'জনেই একসঙ্গে যাচ্ছেন এটা সবসময় দেখা যায় না। কেকে বিড়লা হিন্দুস্তান টাইমস পত্রিকার মালিক ছিলেন। তিনি কংগ্রেস মনোনীত রাজ্যসভার সদস্য হয়েছিলেন। তাঁর কন্যা শোভনা ভারতিয়া রাজ্যসভায় এসেছেন তাঁর বাবার মৃত্যুর পর। তিনিও কংগ্রেসের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন।
শুধু তো কুণাল নয়। কুণালের কাহিনি বলতে শুরু করলে শেষ হবে না। আবার আসব কুণালকে নিয়ে আলোচনায়। কিন্তু তার আগে ক্যামেরাটাকে প্যান করে নিয়ে চলে যাই তৃণমূল কংগ্রেসের আরেক সাংবাদিকের ক্লোজআপে। মুখের ওপর ক্লোজআপ শট। তাঁর নাম দেবদীপ পুরোহিত। বাঙালি সমাজে যে খুব একটা পরিচিত নাম তা নয়। কেননা চিরকাল কাজ করেছেন ইংরাজি সংবাদ মাধ্যমে। ‘দ্য টেলিগ্রাফ’, এনডিটিভি ইত্যাদি। তবে ঝরঝরে বাংলা বলেন। আদতে রাজস্থানে বসবাসকারী মাড়োয়ারি। নিরিমিষাশী। আমিষ খান না। কিন্তু বাংলায় থাকতে থাকতে ভীষণভাবে বাঙালি হয়ে উঠেছেন। এমনকি অনেক সময় ধরে তিনি বাংলাদেশেরও বিশেষজ্ঞ সাংবাদিক হয়েছেন। বাংলাদেশে তাঁর যে সংযোগ এবং সম্পর্ক সেও কিন্তু অনস্বীকার্য। সেই দেবদীপ পুরোহিত প্রার্থী হবেন সেটা আর যাইহোক কেউই ভাবতে পারে নি। কুণাল ঘোষ এবার প্রার্থী হবেন সে কথাটা আমরা অনেকেই জানতাম। কিন্তু দেবদীপ পুরোহিত যে প্রার্থী হতে পারেন সেটা বিশ্বাস করা যায়নি !প্রথমে তিনি টেলিগ্রাফ পত্রিকা থেকে ইস্তফা দিয়ে মমতা ব্যানার্জির মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ে বিশেষ মিডিয়া উপদেষ্টা হয়েছেন। খড়দহ নির্বাচন কেন্দ্রে অনেক অবাঙালি ভোটার, হিন্দি ভাষী ভোটার আছে এবং খড়দহে প্রচুর জুটমিল আছে! ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়া, শিল্প এলাকা। সেখানে অনেক রকমের জটিলতা আছে। অনেক রকমের মালিক-শ্রমিকদ্বন্দ্ব আছে। অনেক সমাজবিরোধী কার্যকলাপের গোলমাল রয়েছে। মুকুল রায় একসময় এই এলাকায় রাজনীতি করেছেন। সেই খড়দহে সাংবাদিকের জীবনে প্রথম ভোটে দাঁড়ানো! সেটা কি ছোটখাটো ব্যাপার?
কুণাল ঘোষ রাজ্যসভার সদস্য হয়েছেন। কিন্তু তিনিও বিধানসভা নির্বাচনে অবতীর্ণ হলেন এই প্রথম। বিধানসভা নির্বাচনে না দাড়ালেও তিনি যেভাবে ২৪x৭, কখনও রক্তদান শিবির, কখনও পাড়ার বইমেলা, কখনও ছোটবেলার স্কুলে যান!
তিন কিন্তু ধারাবাহিক ভাবে এই কাজটি করে চলেছেন। একই সঙ্গে এত কাজ, যাকে বলে মাল্টিটাস্কিং কী করে যে কুণাল করে সেটা অভাবনীয়। এখনও তিনি সাংবাদিক সত্তা ছাড়তে রাজি নন। প্রচুর লিখে চলেছেন। তিনি লেখক, অনেক কিছু বইয়ের জন্য দিয়েছেন। বেশকিছু বই বেস্ট সেলার। আসলে জেলে থাকার সময় থেকেই উপন্যাস লিখতে শুরু করেছেন। তাঁর প্রথম যে উপন্যাস আনন্দবাজার গোষ্ঠীর যে শারদীয়া সংখ্যায় প্রকাশিত সেটিও কিন্তু জেলে বসে লেখা।
তবে শুধু তৃণমূল কংগ্রেস তো নয়। বিজেপিরও প্রার্থীদের মধ্যে এবার দু-দুটো সাংবাদিকের সন্ধান পাচ্ছি। দুজনেই দু'রকম। কিন্তু দু'জনের একজনের কলকাতায় শিকড় থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে দিল্লিবাসী। দিল্লি থেকে রাজ্যসভার সদস্য হয়েছেন। আবার অন্যদিকে অন্যজন কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার সাংবাদিক ছিলেন। তার আগে বর্তমান পত্রিকার সাংবাদিক ছিলেন। তিনি গতবারেরও দাঁড়িয়ে ছিলেন সিউড়ি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে। গতবার তিনি পরাজিত হয়েছিলেন। এবারেও তিনি দাঁড়িয়েছেন সিউড়ি থেকে। একজন স্বপন দাশগুপ্ত আরেকজন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। স্বপন দাশগুপ্ত খুবই চিত্তাকর্ষক একটি চরিত্র। আমি স্বপন দাশগুপ্তকে প্রথম যখন দিল্লিতে দেখেছিলাম, তখন তিনি ‘ইন্ডিয়া টুডে’র অন্যতম কৃতি সম্পাদক। এত পড়াশোনা, এত ইতিহাসবেত্তা মন খুব কমই দেখা যায়। স্বপন আদতে অক্সফোর্ড থেকে ইতিহাস পড়ে আসা মানুষ। তিনি সেখানকার ডক্টরেট। আজকে স্বপন দাশগুপ্ত হয়তো সাংবাদিকতায় না এলে অক্সফোর্ডের অধ্যাপক হতেন। সেই ঐতিহাসিক স্বপন দাশগুপ্ত তিনি ইতিহাস থেকে এসে গেলেন কঠোর কঠিন রাজনীতির বাস্তবতায়।
দেখছি যে, সাংবাদিকরা সবসময় কোনও না কোনও রাজনৈতিক নেতা বা নেত্রীর অনুপ্রেরণায় রাজনীতিতে আসেন। কুণাল ঘোষ এবং দেবদীপ পুরোহিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় এসেছেন। ঠিক সেইভাবে স্বপন দাশগুপ্ত রাজনীতিতে এসেছিলেন কিন্তু লালকৃষ্ণ আডবাণীর অনুপ্রেরণায়। এখনও মনে আছে, যখন তিনি ইন্ডিয়া টুডেতে ছিলেন তখন তিনি ধীরে ধীরে আডবাণীর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। লালকৃষ্ণ আডবাণী নিজেও একদা সাংবাদিক ছিলেন। এটা ভুলে গেলে চলবে না। উনি পাঞ্চজন্য পত্রিকাতে ফিল্ম ক্রিটিক সাংবাদিক ছিলেন। অ্যাক্রিডেটেড সাংবাদিক ছিলেন। অর্থাৎ সরকারি স্বীকৃতি ছিল !
সেই কারণে আডবাণী বিয়ের পর কমলা আডবাণীকে নিয়ে আর কে পুরমে যে ফ্ল্যাটে ছিলেন সেটা ছিল সাংবাদিক কোটায় !
সে যাইহোক, অত ইতিহাসে আর যাব না।
স্বপন দাশগুপ্ত আডবাণীজীর ঘনিষ্ঠ হলেন। আডবাণীজী প্রচন্ড ভালবাসতেন। তাঁর লেখা পড়তে, তাঁর সঙ্গে আলোচনা করতেন। স্বপন দাশগুপ্তর সঙ্গে চন্দন মিত্রও বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। আরেকজন সাংবাদিক কাঞ্চন গুপ্ত !
তাঁকে আডবাণীজী বিজেপি টুডের সাংবাদিক করে নিয়ে এসেছিলেন। তিনিও বাঙালি। কাঞ্চন গুপ্ত বাঙালি বদ্যি এবং ব্রাহ্ম !
স্বপন দাশগুপ্তও বদ্যি। আমাদের বাংলার গৌরব চিত্তরঞ্জন দাশ!
তিনিও বদ্যি পরিবার থেকে। স্বপন দাশগুপ্ত এবার যেখান থেকে দাঁড়িয়েছেন সেই এলাকায় ওদের একটা পুরনো বসতবাড়ি ছিল। কলকাতার মানুষ স্বপন। বিখ্যাত শিল্প প্রতিষ্ঠান একদা ক্যালকাটা কেমিক্যালসের কর্ণধারের পুত্র স্বপন। সেই স্বপন চলে এলেন বিজেপিতে। বিজেপিতে এসে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে পূর্ণ মেয়াদে থাকেন। তিনি অরুণ জেটলির ঘনিষ্ঠও ছিলেন। শুধু অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি নন। অরুণ জেটলি যখন রাজনীতিবিদ হননি, যখন তিনি আইনজীবী অরুণা জেটলি তখন থেকে তাঁর পারিবারিক সখ্য। তারপর স্বপন হয়ে গেল পশ্চিমবঙ্গের তারকেশ্বরের নির্বাচন কেন্দ্রের প্রার্থী। এবারে এল কলকাতা শহরে। শহরের কেন্দ্র স্বপনের জন্য একটু ভাল, কেননা স্বপন নিজে শহুরে। অভিজাত সমাজের প্রতিনিধিত্ব করেন। তবে সমস্যাটা হচ্ছে, স্বপন বাঙালি কিন্তু আজকের যে বাংলা তার যে পরিবর্তিত সংস্কৃতি তার সঙ্গে স্বপন কতটা নিজে যুক্ত বা তাঁর যুক্ত হওয়া সম্ভব সেটা নিয়ে একটা প্রশ্ন চিহ্ন থাকে।
কুণাল ঘোষ আর স্বপন দাশগুপ্ত এরা কিন্তু সাংস্কৃতিক দিক থেকে দু'রকমের মানুষ। সেই কারণে কলকাতার তুলনায় স্বপন দিল্লিতে অনেক বেশি সহজ।
কিন্তু নির্বাচনে জয় পরাজয় থাকে। কেউ জেতে, কেউ হারে। সাংবাদিক হিসেবে রাজনীতিতে এসে এতদিন ধরে টিকে থাকা এবং আজকের যে পরিবর্তিত বিজেপি তার সঙ্গে মানিয়ে থাকা সেটাও স্বপনের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ। তার কারণ বাজপেয়ী-আডবাণীর বিজেপি আর মোদী-অমিত শাহের বিজেপি তো এক নয়? আদতে স্বপন খুব উদারবাদী মানুষ। তিনি তাঁর জীবনযাত্রায় কট্টর হিন্দুত্ববাদী আরএসএসসের মতো নয়। তিনি নিজে মতাদর্শগত ভাবে একটা হিন্দু জাতীয়তাবাদের সমর্থক, বিশ্লেষক হয়ে উঠেছেন। একটা বই পর্যন্ত লিখেছেন বন্দেমাতরমের জাতীয়বাদী সত্তা নিয়ে। তার বিবর্তন নিয়ে। তবে স্বপনকে নিয়ে আলোচনা ভবিষ্যতে আরও করা যেতে পারে।
কিন্তু আপাতত আমরা ক্যামেরা নিয়ে যাই সল্টলেকে বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। সেখানে একটা সাধারণ সম্পাদকের ঘরে বসে আছেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। আগে তো জগন্নাথ সবসময় শার্টপ্যান্ট পরতেন। আনন্দবাজার পত্রিকার সাংবাদিক। তার আগে বর্তমান পত্রিকায় খবর করার ব্যাপারে প্রচন্ড ক্ষুরধার তাঁর মেধা ছিল। এককথায় সম্পাদকেরা বলতেন, জগন্নাথ হল, ইনফরমেশন অ্যাক্টিভিস্ট। নবান্নে গিয়ে শুধু রাজনৈতিক নেতা নয়, প্রশাসকদের মধ্যেও পেনিট্রেশন ছিল অনবদ্য। হার্ড খবর কাকে বলে সেটা জগন্নাথ বুঝতে পারত। জগন্নাথের আরএসএসের সঙ্গে সম্পর্ক বাল্যকাল থেকেই। জগন্নাথ ‘স্বস্তিকা’ কাগজের সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন। যেমন আডবাণীজী ‘পাঞ্চজন্য’তে সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন। তারফলে আরএসএসের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা অনেকদিনের। বিশেষ করে কলকাতার যে আরএসএস অর্থাৎ কেশব ভবন সেখানে তাঁর অবাধ যাতায়াত ছিল। কেশব ভবনকেই ধরে বাঙালি আরএসএস নেতাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলার সঙ্গে সঙ্গে একই সঙ্গে তিনি কিন্তু পৌঁছে গেছেন সর্বভারতীয় হিন্দুভাষী মারাঠি আরএসএসের নেতাদের মধ্যে। আরএসএসের সখ্য দিয়ে তিনি পৌঁছে গিয়েছেন আজকের বিজেপি নেতাদের কাছাকাছি।
সাংবাদিক জগন্নাথ মমতা ব্যানার্জিরও খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি প্রচুর খবর করেছেন। মুখ্যসচিব সঞ্জয় মিত্র থেকে শুরু করে আজকের মুখ্য নির্বাচনী পর্যবেক্ষক গুপ্ত এঁরাও ছিলেন জগন্নাথের খুব ঘনিষ্ঠ আমলরা আদর করে জগন্নাথকে ডাকত ‘জগা’ বলে। সাংবাদিকদের মধ্যে জগা-ই ছিল তাঁর নিকনেম।
কিন্তু আনন্দবাজার পত্রিকায় শেষ দিকের সময়টা অনেকের মতই তাঁর খুব সুখের হয়নি। অনেক সময় কোন একটি প্রতিষ্ঠানে দুঃখের সময় এলে তার পরবর্তী অধ্যায় অনেক সময় নুতন করে একটা আনন্দ অধ্যায় শুরু হয়। ৬-নম্বর প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট থেকে ৬-নম্বর মুরলীধর লেনে আগমন ঠিক সেইভাবেই নিরানন্দ জগন্নাথকে আনন্দিত জগন্নাথে পরিণত করল। আনন্দবাজার ছাড়লেও বিজেপিতে তাঁর আনন্দের অভাব ঘটল না। এখন জগন্নাথ প্রথম সাধারণ সম্পাদক শুধু নন, তিনি দিল্লির আরএসএসের সঙ্গেও তাঁর সেতু। শুভেন্দু অধিকারী এবং শমীক ভট্টাচার্য দুজনের সঙ্গেই তাঁর সুসম্পর্ক। আরএসএসের যে সাংগঠনিক সম্পাদকের সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। তারফলে আরএসএস এবং বিজেপির মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন এবং সমস্ত কার্যকলাপের পেছনে তিনিই কিন্তু একটা নীরবে নিভৃতে প্রধান অবয়ব। তিনি এর আগে সিউড়িতে জিততে পারেন নি। কিন্তু সেখানকার ভূমিপুত্র তাই তিনি এবার আসনও বদলান নি। সিউড়ি থেকেই তিনি এবারেও প্রার্থী হচ্ছেন।
কাজেই সাংবাদিকদের রাজনীতিতে আসা এবং এমএলএ হওয়া এখন আর অভিনব কোনও ঘটনা নয়। আগামী দিনে হয়তো আরও অনেক সাংবাদিককে আমরা দেখতে পাব। যেমন অতীতে রন্তিদেব সেনগুপ্ত বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। শিবপুর কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী হয়েছিলেন। এখন অবশ্য তিনি বিজেপি এবং আরএসএস দুদলকেই পরিত্যাগ করে একদা আরএসপির ঘনিষ্ঠ এবং প্রয়াত আরএসপি নেতা সুনীল সেনগুপ্তের পুত্র রন্তিদেবও কিন্তু তৃণমূলের প্রার্থী না হলেও তিনি কিন্তু সক্রিয়ভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের বিভিন্ন আন্দোলনের মঞ্চে তাঁকেও দেখা যাচ্ছে। যেমন দেখা যাচ্ছে আরেক সাংবাদিক সুমন ভট্টাচার্যকে। তাঁরা অবশ্য এখনও নির্বাচনী রাজনীতিতে অংশ নেননি। এরকম ভাবে অন্য দলগুলোর মধ্যে এবার সিপিএম এবং কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকাতেও সাংবাদিকরা আছেন কিনা শেষপর্যন্ত সেটা দেখার জন্য আরেকটু আমাদের ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে।













