রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে শরীরে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। ক্লান্তি, বারবার পিপাসা পাওয়া, ঘন ঘন প্রস্রাব, দুর্বল লাগা-এসবই হতে পারে উচ্চ রক্তশর্করার লক্ষণ। তাই অনেকেই ঘরোয়া উপায়ে ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেন। সেই তালিকায় অনেক পুরনো এবং পরিচিত নাম হল মেথি।
মেথি দানা হোক বা মেথি পাতা, দুটোই শরীরের জন্য উপকারী বলে মনে করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, মেথিতে রয়েছে প্রচুর ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট এবং এমন কিছু উপাদান, যা শরীরে শর্করা শোষণের গতি কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে। ফলে খাওয়ার পর হঠাৎ করে ব্লাড সুগার খুব দ্রুত বাড়ার সম্ভাবনা কমে।
অনেকেই রাতে ১ থেকে ২ চা-চামচ মেথি দানা এক গ্লাস জলে ভিজিয়ে রাখেন। সকালে খালি পেটে সেই জল পান করেন। কেউ কেউ ভেজানো মেথি দানাও চিবিয়ে খান। আবার অনেকে মেথি পাতার রস বা রান্না করা মেথি শাকও নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখেন। ডাল, তরকারি, পরোটা বা রুটির সঙ্গে মেথি পাতা খাওয়া যায় সহজেই।
মেথি শরীরে ইনসুলিনের কাজকে কিছুটা ভাল করতে সাহায্য করতে পারে বলেও মনে করা হয়। ফলে যাঁদের ডায়াবেটিসের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য এটি সহায়ক হতে পারে। তবে এখানে একটা বিষয় খুব জরুরি। শুধু মেথি খেলেই ৭ দিনের মধ্যে ব্লাড সুগার পুরো নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে, এমনটা ভাবা ঠিক নয়। এটি কোনও ম্যাজিক চিকিৎসা নয়।
ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা। এটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দরকার নিয়মিত ব্যায়াম, সঠিক খাবার, কম চিনি, কম তেল-মশলা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ। মেথি শুধু একটি সহায়ক উপায় হতে পারে।
যাঁরা আগে থেকেই ডায়াবেটিসের ওষুধ খান, তাঁদের ক্ষেত্রে বেশি মেথি খেলে রক্তে শর্করা অতিরিক্ত কমে যেতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খুব বেশি পরিমাণে মেথি খাওয়া উচিত নয়। গর্ভবতী মহিলা বা অন্য কোনও গুরুতর অসুস্থতা থাকলেও সতর্ক থাকা জরুরি।
সবমিলিয়ে, মেথি শরীরের জন্য উপকারী এবং ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। তবে শুধু ঘরোয়া টোটকার ওপর ভরসা না করে, নিয়মিত পরীক্ষা ও সচেতন জীবনযাপনই হওয়া উচিত আসল পথ।















