আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলা ছেড়ে রাজপুতদের দেশে সন্দীপ নন্দী। আইলিগের ক্লাব রাজস্থান ইউনাইটেড দলের গোলকিপিং কোচ হয়েছেন তিনি। সেই কারণে বর্ধমানের ছেলের এবার ঠিকানা রাজস্থানের জয়পুর। 

সেই সোনালি শিবির থেকে উত্থান বঙ্গতনয়ের। মোহনবাগানের বিরুদ্ধে ম্যাচ সন্দীপ নন্দীকে পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে আসে। ডাক পড়ে জাতীয় দলে। তার পর মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল, মাহিন্দ্রা, চার্চিল ব্রাদার্সকে সাফল্য এনে দিয়েছেন। জিতেছেন জাতীয় লিগ, পরবর্তীতে আই লিগ-সহ একাধিক সর্বভারতীয় ট্রফি। আশিয়ান কাপে ইস্টবেঙ্গলের বারের নীচে দাঁড়িয়ে তাঁর বীরগাথা সবারই জানা। 

সেই সন্দীপ এখন গোলকিপিং কোচ। আইএসএলের ক্লাব নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডের গোলকিপিং কোচ ছিলেন। তাঁর সময়েই আরেক বঙ্গসন্তান শুভাশিস রায়চৌধুরী দুরন্ত কামব্যাক করেন আইএসএলে। প্রচারের আলো শুষে নেন তিনি। কলকাতার আরেক প্রধান মহামেডান স্পোর্টিংয়ের গোলকিপিং কোচ ছিলেন সন্দীপ। ডায়মন্ড হারবার এফসি-তেও কিবু ভিকুনার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে জাতীয় দলের প্রাক্তন গোলকিপারের। সেপ্টেম্বরে জাতীয় দলের (অনূর্ধ্ব ২০) চুক্তি শেষ হয়েছে তাঁর। এবার নতুন চ্যালেঞ্জ বাংলার ছেলের। অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার তাঁর প্রচুর। নিজের খেলোয়াড় জীবনের অভিজ্ঞতাই আগামি দিনের গোলকিপারদের মধ্যে বিতরণ করতে চান তিনি। অগ্রজর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পারবেন অনুজ গোলকিপাররা।  

একসময়ে রাজস্থান ইউনাইটেডকে নিয়ে দেশের ফুটবলমহলে কম আলোচনা হয়নি। ট্রান্সফার ব্যানের কবলে পড়েছিল। কিন্তু এখন সব মিটে গিয়েছে। আই লিগে রাজস্থান নামবে দুন্দুভি বাজিয়ে। সন্দীপও তৈরি হচ্ছেন নতুন এই লড়াইয়ের জন্য। তাঁর চোখে ভিড় করে রয়েছে স্বপ্ন। বাংলা থেকে ফের যে যেতে হবে ভিনরাজ্যে? সন্দীপের চটজলদি জবাব, ''ফুটবলার জীবনেও ভিনরাজ্যে গিয়ে খেলেছি। কোচিং জীবনেও ফুটবলার জীবনেরই প্রতিফলন। আমি পেশাদার। সেই কারণেই আমি প্রস্তাব গ্রহণ করেছি রাজস্থানের।'' 

গোলকিপিং কোচের এ লাইসেন্স করছেন সন্দীপ। সঙ্গে চলছে কোচিং। ফুটবলারজীবনে যেরকম উত্থান-পতনের একাধিক স্টেশন  অতিক্রম করে দেশের ফুটবলের শীর্ষে পৌঁছেছিলেন, ঠিক তেমনই কোচিং জীবনেও পাহাড় ডিঙোতে ডিঙোতে এগিয়ে চলেছেন বহু যুদ্ধের সৈনিক। মনে দৃঢ় বিশ্বাস একদিন সাফল্যের চূড়োয় পৌঁছবেন।