আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ সিডনিতে ১৬০ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেছেন। টেস্টে শতরানের তালিকায় তিনি এখন তিনে। করে ফেলেছেন ৪১ শতরান। দুইয়ে জ্যাক কালিস (‌৪৫)‌। আর শীর্ষে শচীন তেন্ডুলকার (‌৫১)‌। 
অ্যাশেজের শেষ টেস্টে দুরন্ত শতরানের পর রুট বলেছেন, তিনি এখনও লাল বলের ক্রিকেট উপভোগ করছেন। এখনই তা ছাড়ার ইচ্ছা নেই। এখনও খিদে মরেনি তাঁর।


ইনিংস শেষে রুট বলেছেন, ‘‌সমর্থকদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ।’‌ সঙ্গে এটাও জানাতে ভোলেননি, যে চার বছর পর ফের অ্যাশেজ খেলতে তিনি অস্ট্রেলিয়া আসতে চান। তবে সবটাই নির্ভর করছে পরিস্থিতির উপর।
রুটের কথায়, ‘‌আগাম কোনওকিছুই বলা সম্ভব নয়। তবে এবার অস্ট্রেলিয়ায় দারুণ সমর্থন পেয়েছি। একটা দল হিসেবে খেলেই এই সমর্থন পেয়েছি।’‌ এরপরই রুটের সংযোজন, ‘‌এই অস্ট্রেলিয়ায় ফের খেলতে আসতে পারলে দারুণ হবে। তবে সবটাই নির্ভর করছে পরিস্থিতির উপর। চার বছর পর ফের অস্ট্রেলিয়ায় হবে অ্যাশেজ। তখনকার পরিস্থিতি এখন কী করে বলব।’‌


এদিকে, সিডনিতে বড় রানের পথে এগোচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। বৃষ্টি বিঘ্নিত প্রথম দিনের শেষে ইংল্যান্ডের রান ছিল ৩ উইকেটে ২১১। নজির গড়ে জো রুট সেঞ্চুরি করলেও বাকি ব্যাটাররা ডাহা ফেল। সেই কারণে সুযোগ পেয়েও বড় রান তুলতে ব্যর্থ তারা। ৩৮৪ রানে গুটিয়ে গেল ইংল্যান্ড। জবাবে দ্বিতীয় দিনের শেষে অজিরা ২ উইকেটে ১৬৬। ট্রাভিস হেড ব্যাট করছেন ৯১ রানে।

সিরিজে ১–৩ পিছিয়ে থাকা অবস্থায় সিডনিতে টস জিতে শুরুতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ইংল্যন্ড। জো রুটের (‌১৬০)‌ ও হ্যারি ব্রুকের (‌৮৪)‌ রানের সুবাদে তারা তোলে ৩৮৪। এই নিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ৪১ শতরান হয়ে গেল রুটের। অর্থাৎ শচীনের থেকে এখনও ১০ ধাপ দূরে তিনি। লাল বলের ক্রিকেটে শচীনের সেঞ্চুরি সংখ্যা ৫১। অন্যদিকে, সর্বোচ্চ টেস্ট সেঞ্চুরির নিরিখে রুট এখন যুগ্মভাবে তিনে। অ্যাশেজের পঞ্চম টেস্টে তিনি ছুঁয়েছেন প্রাক্তন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক রিকি পন্টিংকে। তাঁরও সেঞ্চুরি সংখ্যা ৪১। জ্যাক কালিস রয়েছেন দুইয়ে। ৪৫টি টেস্ট সেঞ্চুরি রয়েছে প্রাক্তন প্রোটিয়া অলরাউন্ডারের। শীর্ষে রয়েছেন শচীন। একই সঙ্গে টেস্টে ১৭ বার দেড়শো পেরলেন রুট। দেড়শোর বেশি রান করার নিরিখে তিনি এখন চতুর্থ স্থানে। তাঁর আগে রয়েছেন শচীন তেণ্ডুলকার (২০), ব্রায়ান লারা ও কুমার সাঙ্গাকারা (১৯) এবং ডন ব্র্যাডম্যান (১৮)। এদিকে, ইংরেজ উইকেটকিপার জেমি স্মিথ করেন ৪৬। 


অজি বোলারদের মধ্যে মাইকেল নেসের নেন ৪ উইকেট। মিচেল স্টার্ক এবং স্কট বোলান্ডের শিকার ২টি করে উইকেট। ক্যামেরন গ্রিন ও মার্নাস লাবুসেন নেন ১টি করে উইকেট। জবাবে টি–২০ মেজাজে খেলে ট্রাভিস হেড দ্বিতীয় দিনের শেষে অপরাজিত ৮৭ বলে ৯১ রানে। তাঁর ইনিংসটি ১৫টি বাউন্ডারি দিয়ে সাজানো। অপরাজিত রয়েছেন নৈশপ্রহরী নেসের (১)। এর আগে অবশ্য সাজঘরে ফিরেছেন জেক ওয়েদারল্ড (২১) এবং লাবুসেন (৪৮)। অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে অবশ্য পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন স্টোকস–লাবুসেন। যদিও আম্পায়াররা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। ২ উইকেট নিয়েছেন স্টোকস। দ্বিতীয় দিনের শেষে এখনও ২১৮ রানে এগিয়ে ইংল্যান্ড।