আজকাল ওয়েবডেস্ক: কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬ কি রবিবার পেশ হবে—এই প্রশ্ন ঘিরে তৈরি হওয়া জল্পনার অবসান খুব শিগগিরই হতে চলেছে। সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই বৈঠকের অ্যাজেন্ডাতেই রয়েছে, চলতি বছর ইউনিয়ন বাজেট ঠিক কবে পেশ করা হবে।
গত কয়েক বছর ধরে একটি নির্দিষ্ট ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় ইউনিয়ন বাজেট পেশ করে আসছে সরকার। কিন্তু ২০২৬ সালে একটি ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কারণ, ১ ফেব্রুয়ারি পড়ছে রবিবার। ওই দিনটি আবার গুরু রবিদাস জয়ন্তী, যা একটি রেস্ট্রিকটেড হলিডে। সাধারণত রবিবারে সরকারি দপ্তর ও শেয়ারবাজার বন্ধ থাকে।
তবুও সরকারি সূত্রের খবর অনুযায়ী, সরকার এই রীতিতে ভাঙন আনতে চাইছে না। ফলে রবিবারই বাজেট পেশ করার একটা প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই সেখানে সরকারের অগ্রাধিকার হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকেই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বাজেট অধিবেশনের সূচিও প্রায় চূড়ান্ত। সূত্রের খবর, সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হতে পারে ২৮ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতির ভাষণের মাধ্যমে। পরদিন অর্থাৎ ২৯ জানুয়ারি সংসদে পেশ করা হবে ইকোনমিক সার্ভে। ৩০ ও ৩১ জানুয়ারি ছুটি থাকায় সরাসরি ১ ফেব্রুয়ারি, রবিবার ইউনিয়ন বাজেট পেশ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্ব প্রায় তিন সপ্তাহ চলবে। এই সময় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ভাষণের উপর ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে, যার জবাব দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এরপর বাজেট নিয়ে আলোচনা এবং ফিনান্স বিল পেশ করা হবে।
অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব চলবে প্রায় চার সপ্তাহ। এই পর্বে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বিল এবং বিভিন্ন মন্ত্রকের অনুদান সংক্রান্ত দাবি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ২০১৭ সাল থেকে ১ ফেব্রুয়ারিতেই ইউনিয়ন বাজেট পেশ করার রীতি চালু হয়। প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি এই পরিবর্তন এনেছিলেন। ২০২৫ সালে ১ ফেব্রুয়ারি শনিবার পড়ায় সেদিনই অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করা হয়েছিল। শনিবার বাজেট পেশ নতুন কিছু নয়।
তবে ২০১৭ সালের পর এই প্রথম ১ ফেব্রুয়ারি রবিবার পড়ছে। এর আগে শেষবার রবিবার বাজেট পেশ হয়েছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৯ সালে। সেই বাজেট পেশ করেছিলেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী যশবন্ত সিনহা। তিনিই প্রথম বিকেল ৫টার পরিবর্তে সকাল ১১টায় বাজেট বক্তৃতা শুরু করার রীতি চালু করেছিলেন।
