বিশ্বব্যাপী শক্তির জন্য তেল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি এখনও অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিকে প্রভাবিত করে। ওপেক-এর ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী তেলের চাহিদা দৈনিক গড়ে ১০৩.৮৪ মিলিয়ন ব্যারেল ছিল। যা আগের বছরের তুলনায় দৈনিক ১.৪৯ মিলিয়ন ব্যারেল বা ১.৫ শতাংশ বেশি। আজকের প্রতিবেদনে বিশ্বের বৃহত্তম তেলের ভাণ্ডারের অধিকারী শীর্ষ সাতটি দেশের তালিকা দেওয়া হল।
2
8
২০২৫ সালে ওপেক-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলায় বিশ্বের বৃহত্তম তেল মজুদ রয়েছে। যার পরিমাণ প্রায় ৩০৩,২২১ মিলিয়ন ব্যারেল। গত বছরের তুলনায় প্রায় ২১৩ মিলিয়ন ব্যারেল বেশি। এই বিশাল সম্পদের ভাণ্ডার থাকা সত্ত্বেও, রাজনৈতিক অস্থিরতা, নিষেধাজ্ঞা এবং বিনিয়োগের অভাবে উৎপাদন দীর্ঘদিন ধরে ব্যাহত হচ্ছে। আমেরিকার দেশটির রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর, ভেনিজুয়েলার পরিস্থিতি আরও অস্থির হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
3
8
সৌদি আরবের তেলের মজুত প্রায় ২৬৭,২০০ মিলিয়ন ব্যারেল। ভাণ্ডার প্রায় ৩০ মিলিয়ন ব্যারেল হ্রাস পেয়েছে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় তেল রপ্তানিকারক এবং ওপেক-এর একজন প্রধান সদস্য হিসেবে দেশটির বিশ্ব জ্বালানি বাজারের উপর প্রভাব ব্যাপক। এর মজুত থেকে তেল উত্তোলন করা তুলনামূলকভাবে সহজ।
4
8
কানাডার কাছে আনুমানিক ১৬৩,৪৪০ মিলিয়ন ব্যারেল প্রমাণিত তেলের মজুদ রয়েছে। এই মজুদের বেশিরভাগই তেল বালিতে রয়েছে। বিশেষ করে আলবার্টা প্রদেশে। এর ফলে দেশটিতে তেল উত্তোলন জটিল এবং ব্যয়বহুলও। কানাডা ব্রিটেনের প্রধান তেল সরবরাহকারী। দেশটি শক্তি উৎপাদন ও পরিবেশগত ও জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতিগুলির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর মনোযোগ দিচ্ছে।
5
8
ইরানের কাছে প্রায় ২০৮,৬০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেলের মজুদ রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে দেশটি তার তেল সম্পূর্ণরূপে উত্তোলন ও রপ্তানি করার ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ইরানের জ্বালানি শিল্প দেশটির অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব শক্তিগুলির সঙ্গে ইরানে সম্পর্কের ভিত তেলের উপরই তৈরি।
6
8
ইরাকের তেলের মজুদের পরিমাণ প্রায় ১৪৫,০১৯ মিলিয়ন ব্যারেল। তেলই ইরাকের অর্থনীতির মেরুদণ্ড এবং এটি সরকারি রাজস্বের সিংহভাগের উৎস। দেশটিতে তেলের মজুদ প্রচুর এবং তা উত্তোলন করাও তুলনামূলকভাবে সহজ। তবুও রাজনৈতিক অস্থিরতা, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ এবং পরিকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ উৎপাদন বৃদ্ধিকে সীমিত করে রেখেছে।
7
8
সংযুক্ত আরব আমিরশাহির তেলের মজুদ প্রায় ১১৩,০০০ মিলিয়ন ব্যারেল। এই মজুদের বেশিরভাগই আবুধাবির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তেল দেশটির সম্পদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একই সঙ্গে হাইড্রোকার্বনের উপর দীর্ঘমেয়াদী নির্ভরতা কমাতে আমিরশাহি অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনা, নবীকরণযোগ্য শক্তি এবং প্রযুক্তিতে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করছে।
8
8
কুয়েতের তেলের মজুদের পরিমাণ প্রায় ১০১,৫০০ মিলিয়ন ব্যারেল। দেশটির অর্থনীতি তেল রপ্তানির উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ওপেক-এর দীর্ঘদিনের সদস্য হিসেবে কুয়েত বিশ্বে তেল সরবরাহে একটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে। (সব ছবি সংগৃহীত)