দুই বছরের আগেই শিশুকে মোবাইল বা টিভির স্ক্রিনে অভ্যস্ত করে তোলা ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, এমনই সতর্কবার্তা দিচ্ছেন গবেষকরা। সাম্প্রতিক একাধিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, খুব ছোট বয়সে অতিরিক্ত স্ক্রিনে সময় কাটালে শিশুর মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশে বাধা তৈরি হতে পারে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, জন্মের পর থেকে দুই বছর বয়স পর্যন্ত সময়টি শিশুর মস্তিষ্কের দ্রুত বিকাশের পর্যায়। এই সময়ে মস্তিষ্কে অসংখ্য নিউরাল সংযোগ তৈরি হয়, যা ভাষা শেখা, মনোযোগ তৈরি এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতার ভিত্তি গড়ে তোলে। কিন্তু যদি এই সময় শিশুর বড় অংশের সময় কাটে স্ক্রিনের সামনে, তাহলে সেই প্রাকৃতিক বিকাশ প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।


গবেষণা বলছে, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে শিশুর বাস্তব জীবনের যোগাযোগ কমে যায়। যেমন মা-বাবার সঙ্গে কথা বলা, চোখে চোখ রেখে যোগাযোগ করা বা খেলাধুলা-এই সব অভ্যাস কমতে থাকে। অথচ এই অভিজ্ঞতাগুলোই শিশুর মস্তিষ্কের সংযোগগুলোকে জোরদার করে এবং শেখার ক্ষমতা বাড়ায়।


আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, স্ক্রিনে দেখা কনটেন্ট সাধারণত একমুখী বা ‘প্যাসিভ’। অর্থাৎ, শিশু শুধু দেখছে, কিন্তু সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে না। ফলে তাদের কৌতূহল, সৃজনশীলতা এবং সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা ঠিকভাবে গড়ে ওঠে না। দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব পড়তে পারে আচরণ ও শেখার দক্ষতার উপরও।


তবে প্রযুক্তিকে পুরোপুরি এড়িয়ে চলা আজকের দিনে সম্ভব নয়। তাই বিশেষজ্ঞরা সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার বদলে সচেতন ব্যবহারের পরামর্শ দেন। শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষ করে দুই বছরের নিচে স্ক্রিন টাইম যতটা সম্ভব কম রাখা উচিত। বদলে শিশুকে সময় দিন গল্প শোনানো, গান গাওয়া, খেলাধুলা এবং আশপাশের জগৎ চিনে নেওয়ার মতো কাজে। মা-বাবার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, স্পর্শ, শব্দ ও অনুভূতির মাধ্যমে শেখা—এই সবই একটি সুস্থ মস্তিষ্ক গঠনের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

 

মনে রাখবেন, ছোট থেকেই স্ক্রিনের উপর নির্ভরশীলতা বাড়ানো নয়, বরং বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখার সুযোগ করে দেওয়াই শিশুর সুস্থ মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের চাবিকাঠি।