৯৬ বছরে প্রথম অক্ষরজ্ঞান, ৯৮% নম্বর পেয়ে প্রথম হলেন আম্মা, মৃত্যুর আগে খুঁজে পেলেন পরশপাথর
নিজস্ব সংবাদদাতা
১৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৩ : ৪০
শেয়ার করুন
1
17
পরীক্ষা চলছে ক্লাসে, চারপাশে হাঁটুর বয়সী ছেলেমেয়ে৷ তাদের মাঝেই গিয়ে বসলেন নবতিপর এক বৃদ্ধা৷ চামড়া ঝুলে পড়েছে, জীবনের ভারে শরীর নুব্জ কিন্তু শেখার ইচ্ছায় অনায়াসে হার মানাবেন যে কাউকে৷
2
17
কাগজ নিলেন, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে হাতে নিলেন পেনসিল৷ হাত কাঁপছে কিন্তু মন একাগ্র৷ বয়স ৯৬, নয় দশকের জীবনে বহু পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছেন কিন্তু ক্লাসে বসে ছাত্র হিসাবে এই তাঁর প্রথম পরীক্ষা৷
3
17
পরীক্ষার ফল প্রকাশ হলে কেউই যেন নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না৷ কার্তায়নী আম্মা ৯৮% নম্বর পেয়েছেন।
4
17
যে মানুষটি জীবনের বেশিরভাগ সময় লিখতে পড়তে জানতেন না, তাঁর কাছে এই নম্বর যেন পরশপাথর, সাফল্যের সঙ্গে আম্মার অক্ষর পরিচয়
5
17
কেরালার আলাপুজ্জা জেলায় ১৯২২ সালে কার্তায়নী আম্মার জন্ম৷ দারিদ্র্যের কারণে পরিবারের বোঝা কাঁধে তুলে নিতে হয় খুব অল্প বয়সে৷ ইস্কুলের দরজা বন্ধ হয়ে যায়।
6
17
কালের নিয়মে বিয়ে হল৷ ছয় সন্তানের মা হলেন আম্মা৷ ঘরকন্নার কাজ সামলানোর পাশাপাশি, রাস্তায় ঝাড়ুদার হিসাবে কাজ করতেন আম্মা৷
7
17
মনে মনে পড়াশোনার অদম্য ইচ্ছা কিন্তু উপায় নেই৷ ৯০ বছর কেটে গেছে এভাবেই৷ আর পাঁচজনের ক্ষেত্রে হলে পড়াশোনার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যেত।
8
17
কিন্তু আম্মার জীবনে বাজিগরের ডায়লগ সত্য হল। অগর কিসি চিজ কি দিল সে চাহতে হ্যায়...
9
17
আম্মার মেয়ে ৬০ বছর বয়সে অক্ষর পরিচয় শুরু করল৷ পরীক্ষায় পাশ করল৷ মেয়েকে দেখেই ৯৬ বছরের মা ভাবলেন মেয়ে পারলে আমিও পারব৷ এভাবেই শুরু হল আম্মার অক্ষরপরিচয়।
10
17
৯৬ বছর বয়সে কেরালার অক্ষরালক্ষ্যম সাক্ষর অভিযানে নাম লেখালেন আম্মা। প্রবীণ ব্যক্তি যাঁরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত তাঁদের জন্যই কেরালা সরকার থেকে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল৷
11
17
২০১৮ সালে কেরালা সাক্ষর অভিযানে প্রায় ৪০,০০০ মানুষের সঙ্গে পরীক্ষা দিয়েছিলেন আম্মা৷ লেখা পড়া আর অঙ্ক কষার এই পরীক্ষায় আম্মাই ছিলেন প্রবীণতম শিক্ষার্থী।
12
17
পরীক্ষার ফল প্রকাশ হলে দেখা গেল সকলের থেকে বেশি নম্বর পেয়েছেন আম্মা। ১০০ তে ৯৮ নম্বর পেয়েছেন৷
13
17
অঙ্ক আর পড়াতে তিনি ১০০ তে ১০০ কেবল লেখার ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা হওয়ায় ২ নম্বর কম পেয়েছেন৷
14
17
আম্মার পরীক্ষার ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর প্রশংসায় সংবাদ শিরোনাম হল৷ বিভিন্ন সাক্ষর অভিযানে তাঁর গল্প বলা হল৷ তাঁকে পুরস্কৃত করাও হল৷ কিন্তু আম্মার কৌতুহল ছিল ওই দুই নম্বর কম হল কোন ভুলে৷
15
17
আম্মার এই কৃতিত্বের জন্য ভারত সরকার নারী শক্তি পুরস্কারে তাঁকে সম্মানিত করলেন। দেশের মধ্যে নারীদের সম্মান জানানোর ক্ষেত্রে এটাই সর্বোচ্চ সম্মান।
16
17
১০১ বছর বয়সে আম্মা প্রয়াত হন ২০২৩ সালে৷ রেখে গেলেন এমন এক অনুপ্রেরণা, যা গ্রামের গন্ডি ছাড়িয়ে দেশ কালের সীমানা পেরিয়ে লক্ষ লক্ষ নারীর সংগ্রামের শক্তি হয়ে উঠল৷
17
17
যে সময় জীবন নিয়ে আর কোনও আশাই থাকে না মানুষের আম্মা সেই সময় শূন্য থেকে শুরু করে শীর্ষে উঠলেন, ইচ্ছা থাকলে সময় বয়স যে কোনও বাধা নয়, তা প্রমাণ করলেন আম্মা।