সুস্থ থাকতে শরীরচর্চার বিকল্প নেই। আজকাল অনেকেই জিমে গিয়ে ঘাম ঝরাতে ভালবাসেন। শুধু ওজন কমানো কিংবা সুস্থতা বজায় রাখতেই নয়, সুঠাম পেশি গঠনের জন্যেও ইদানীং তরুণ-তরুণীদের মধ্যে জিমে গিয়ে ওয়েট ট্রেনিং করার ঝোঁক বেড়েছে। কিন্তু জানেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটানো সেই জিমের সরঞ্জামে থাকতে পারে কমোটের সিটের চেয়েও বেশি ব্যাকটেরিয়া? শুনতে অবাক লাগলেও গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই তথ্য।
সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, জিম যন্ত্রে ব্যাকটেরিয়ার ঘনত্ব টয়লেট সিটের তুলনায় ১০–১৫ গুণ বেশি হতে পারে। এর ফলে নিয়মিত যন্ত্র ব্যবহার করা একজন ব্যবহারকারীর জন্য সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে যদি হাইজিন ব্যবস্থা পর্যাপ্ত না থাকে তাহলে বড়সড় সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে।
আরও পড়ুনঃ ভিটামিন এ-এর খনি! এই সবজি নিয়মিত খেলেই তরতরিয়ে কমবে ওজন, মারণ রোগ নিয়ে থাকবে না চিন্তা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডাম্বেল, ব্যাঙ্ক, কার্ডিও মেশিনের হ্যান্ডেল ও অন্যান্য যন্ত্রগুলি মানুষের ঘাম, ত্বকের তেল এবং মাটির সংস্পর্শে আসে। যা ব্যাকটেরিয়ার বিস্তারকে দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু সুস্থ থাকতে তো শরীরচর্চা জরুরি। তাহলে উপায় কী?
ফিটনেসপ্রেমীদের জন্য পরামর্শ
১. জীবাণুমুক্তকরণঃ নিয়মিত ফিটনেস যন্ত্রগুলো পরিষ্কার করতে হবে। ৩০ সেকেন্ড করে সময় নিয়ে প্রতিটি সরঞ্জাম স্যানিটাইজ করা জরুরি। জিমে যে কোনও যন্ত্র ব্যবহার করার আগে এবং পরে হ্যান্ডেল ও স্পর্শক অংশগুলো অ্যালকোহল বেসড ডিসইনফেকট্যান্ট দিয়ে পরিষ্কার করতে পারেন। এতে একটু হলেও সংক্রমণের ঝুঁকি এড়ানো যাবে।
২. ব্যক্তিগত সরঞ্জাম ব্যবহারঃ নিজের হ্যান্ড টাওয়েল বা ম্যাট ব্যবহার করুন। এতে সরঞ্জাম এবং শরীরের সংস্পর্শ সীমিত থাকবে। অন্যদের ঘাম, ময়লা থেকেও সংক্রমণ ছড়ানোর ভয় কম থাকবে।
৩. ঘাম ঝরার সঙ্গে পরিচ্ছন্নতাঃ ওয়ার্কআউটের পর ঘাম পরিষ্কার করা এবং যদি সম্ভব হয়, শরীরের সংস্পর্শে আসা যন্ত্রগুলোও দ্রুত মুছে ফেলা উচিত।
৪. জিমের হাইজিন রুটিন নিশ্চিত করাঃ জিমের কর্তৃপক্ষদেরও কিছু সচেতনতা মেনে চলতে হবে যারা জিম পরিচালনা করেন, তাদের নিয়মিত যন্ত্রগুলোতে জীবাণুনাশক প্রয়োগ করা জরুরি।
৫. হাত ধোওয়াঃ প্রতিরক্ষা হল হাত ধুয়ে নেওয়া। ওয়ার্কআউটের পর এবং খাবার খাওয়ার আগে সবসময় হাত ধুয়ে নিন। হাত না ধোওয়া অবস্থায় মুখে হাত একদম দেবেন না।
















