ফিটনেস, সুস্থ জীবনযাপন আর বয়সকে হার মানানো সৌন্দর্যের কথা উঠলেই মালাইকা আরোরার নাম উঠে আসে। বয়স পঞ্চাশ পেরিয়েও তাঁর ফিটনেস, ত্বকের জেল্লা এবং এনার্জি আজও অবাক করে সকলকে। সম্প্রতি অভিনেত্রী নিজের খুব সহজ একটি ‘ওয়াটার থেরাপি’-র কথা জানিয়েছেন, যা তিনি প্রায় প্রতিদিন সকালে মেনে চলেন। তাঁর মতে, শরীরকে ভিতর থেকে সুস্থ রাখতে এই ছোট অভ্যাসগুলো খুবই কার্যকর।

মালাইকা জানান, ঘুম থেকে উঠে তিনি প্রথমেই কয়েক ধরনের ‘ওয়াটার শট’ পান করেন। এগুলো হল ইমিউনিটি শট, ডাইজেস্টিভ শট এবং গ্লো শট। নাম শুনতে কঠিন লাগলেও এগুলো আসলে খুব সাধারণ কিছু উপকরণ দিয়ে তৈরি। বাড়ির রান্নাঘরেই সহজে বানানো যায়।

প্রথমে আসা যাক 'ইমিউনিটি শট'-এর কথায়। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে বলে মনে করেন অভিনেত্রী। এই পানীয় বানাতে লাগে আদা, কাঁচা হলুদ, পুদিনা পাতা, তুলসী পাতা, চিয়া সিডস এবং জল। সব উপকরণ একসঙ্গে ব্লেন্ড করে ছেঁকে নিতে হয়। চাইলে স্বাদ বাড়ানোর জন্য সামান্য মধু মেশানো যেতে পারে। আদা ও হলুদ শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে, আর তুলসী ও পুদিনা শরীরকে সতেজ রাখে।

এরপর আসে 'ডাইজেস্টিভ শট'। নাম থেকেই বোঝা যায়, এটি হজমের জন্য ভাল। এতে লাগে জোয়ান, জিরে, মৌরি এবং মেথি। প্রতিটি এক চামচ করে রাতে জলে ভিজিয়ে রাখতে হয়। সকালে সেই জল হালকা গরম করে তাতে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে ছেঁকে খেতে হয়। এটি পেট পরিষ্কার রাখতে, গ্যাস-অম্বল কমাতে এবং হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।

ত্বকের জেল্লার জন্য তিনি খান ‘গ্লো শট’। এতে থাকে অ্যালোভেরা জেল এবং জল। কখনও তিনি অ্যালোভেরা বরফের কিউব তৈরি করে সেটাও ব্যবহার করেন। চাইলে এতে ভেজানো চিয়া সিডস বা সবজা সিডস মেশানো যায়। তাঁর মতে, এটি ত্বককে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে এবং ভিতর থেকে উজ্জ্বলতা আনে।

শুধু এটুকুই নয়, শরীরকে আরও সতেজ রাখতে তিনি ওয়ার্কআউটের সময় শসা, সেলারি এবং গ্রিন অ্যাপল দিয়ে তৈরি গ্রিন জুসও পান করেন। এতে শরীর ঠান্ডা থাকে এবং এনার্জিও বজায় থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ঘরোয়া পানীয় শরীরের জন্য ভাল হলেও এগুলো কোনও ম্যাজিক নয়। শুধু এগুলো খেলেই সব সমস্যা দূর হবে না। সঠিক খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং পর্যাপ্ত জলপান-সব মিলিয়েই ভাল স্বাস্থ্য তৈরি হয়।

দামি সাপ্লিমেন্ট বা কঠিন ডায়েট নয়, রোজকার ছোট ছোট স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই শরীরকে ভালো রাখে। মালাইকার এই সহজ ওয়াটার থেরাপি সেই কথাই আবার মনে করিয়ে দেয়।