এক মাসেরও বেশি সময় ধরে সোনার বাজারে যে অস্থিরতা চলছিল, তাতে অবশেষে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত মিলছে। বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ওঠানামা করছে হলুদ ধাতুর দর। বিশেষ করে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ার খবর সামনে আসতেই বিশ্ব বাজারে সোনার দামে বড়সড় পতন লক্ষ্য করা গেছে।
2
9
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের যে মেঘ ঘনীভূত হয়েছিল, তার সরাসরি প্রভাব পড়েছিল সোনার দামে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকেও বেশ টালমাটাল করে দিয়েছিল। তবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হতেই লগ্নিকারীদের মধ্যে কিছুটা আত্মবিশ্বাস ফিরেছে, যার ফলে নিম্নমুখী হয়েছে সোনার গ্রাফ।
3
9
ভারতের বাজারেও এই আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রতিফলন স্পষ্ট। আজ ২৭ এপ্রিল, সোমবারের হিসেব অনুযায়ী দেশের বাজারে সোনার দামে বড় রদবদল চোখে পড়ছে। মধ্যবিত্তের প্রধান আকর্ষণ ২২ ক্যারেট সোনার দাম এখন প্রতি গ্রামে ১৪,১৫৫ টাকা।
4
9
অন্যদিকে, যারা বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে বা একদম খাঁটি সোনা কিনতে চাইছেন, তাদের জন্য ২৪ ক্যারেট সোনার দাম দাঁড়িয়েছে প্রতি গ্রামে ১৫,৪৪২ টাকা। মুদ্রাস্ফীতির বাজারে সোনাকে সবসময়ই একটি নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য করা হয়, তাই দামের এই সামান্য পতন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বড় লগ্নিকারীদের কাছেও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
5
9
তবে দেশের অন্যান্য শহরের দিকে তাকালে দেখা যাচ্ছে সামান্য পার্থক্য। চেন্নাইয়ে সোনার দাম তুলনামূলক কিছুটা বেশি, সেখানে ২৪ ক্যারেট সোনার দর প্রতি গ্রামে ১৫,৫২৪ টাকা। আবার চণ্ডীগড়, দিল্লি বা গুরগাঁওয়ের মতো শহরগুলিতে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি গ্রামে ১৫,৪৫৭ টাকার আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে।
6
9
আহমেদাবাদে এই দর প্রতি গ্রামে ১৫,৪৪৭ টাকা। বেঙ্গালুরু, ভুবনেশ্বর এবং হায়দরাবাদে অবশ্য কলকাতার সমান দরেই সোনা কেনাবেচা হচ্ছে।শহর কলকাতার ক্ষেত্রেও দামের ছবিটা একই রকম।
7
9
আজ কলকাতায় ২২ ক্যারেট সোনা বিকোচ্ছে প্রতি গ্রামে ১৪,১৫৫ টাকায় এবং ২৪ ক্যারেট সোনার দর গ্রাম প্রতি ১৫,৪৪২ টাকা।
8
9
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব অর্থনীতির এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে সোনার এই দামের পরিবর্তন অত্যন্ত স্বাভাবিক। যুদ্ধবিরতির স্থিতাবস্থা বজায় থাকলে আগামী দিনে সোনার দাম আরও কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
9
9
তবে যেহেতু সোনা একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল সম্পদ, তাই বিশ্ববাজারের খবরের দিকে নজর রেখেই এখন পা মেপে চলছেন ক্রেতারা। আপাতত বিয়ের মরসুমের আগে দামের এই সামান্য রাশ টেনে ধরা মধ্যবিত্ত বাঙালির মুখে হাসি ফোটাবে বলেই আশা করা যায়।