দেশের শেয়ারবাজারে পতনের সুর দেখা গেল। ব্যাঙ্কিং খাতের শেয়ারে বিক্রির চাপ এবং বিশ্বের নীতিগত উদ্বেগের মিশ্র প্রভাবে সূচকগুলো নিম্নমুখী হয়েছে। দিনশেষে সেনসেক্স ৪১৬.৭২ পয়েন্ট বা ০.৫৪% কমে ৭৬,৮৮৬.৯১-এ বন্ধ হয়েছে। অন্যদিকে নিফটি ৯৭ পয়েন্ট বা ০.৪০% নেমে ২৩,৯৯৫.৭০-এ শেষ করেছে।
2
9
এই পতনের মূল কারণ ছিল ব্যাঙ্কিং শেয়ার। আরবিআই সম্প্রতি তাদের ইসিএল ফ্রেমওয়ার্ক এবং অ্যাসেট ক্লাসিফিকেশন সংক্রান্ত চূড়ান্ত নিয়ম ঘোষণা করেছে। এর ফলে ঋণদাতা সংস্থাগুলির জন্য প্রভিশনিং বা সংরক্ষণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা ব্যাঙ্কিং স্টকগুলিকে চাপে ফেলেছে।
3
9
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন নিয়মগুলি ভবিষ্যতে ব্যাঙ্কগুলির ব্যালান্স শিটে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক হয়ে পড়েছেন এবং ব্যাঙ্কিং শেয়ারে মুনাফা তুলতে শুরু করেছেন। এর জেরেই বাজারে সামগ্রিকভাবে বিক্রির চাপ বেড়েছে।
4
9
এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তাও বিনিয়োগকারীদের মনোভাবে প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে ফেডেরাল রিজার্ভের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের আগে বাজারে এক ধরনের অপেক্ষা ও সতর্কতা তৈরি হয়েছে। এই অনিশ্চয়তা দেশীয় বাজারেও প্রভাব ফেলেছে।
5
9
জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের তুলনামূলক কড়া নীতি এবং এশিয়ার অন্যান্য বাজারে দুর্বল প্রবণতাও বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস কমিয়েছে। একই সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে, যা ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য উদ্বেগের কারণ। তেলের দাম বাড়লে আমদানি খরচ বেড়ে যায় এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
6
9
বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা এই সময়েও বিক্রেতা হিসেবেই সক্রিয় থেকেছেন। তাদের ধারাবাহিক টাকা তোলার প্রবণতা বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। পাশাপাশি টাকার দুর্বলতাও বাজারের মনোভাবে চাপ সৃষ্টি করেছে।
7
9
তবে কিছুটা স্বস্তি এসেছে দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কেনাকাটা থেকে। তাদের বিনিয়োগ বাজারের বড় ধরনের পতন রুখতে সাহায্য করেছে। ফলে সূচকের পতন সীমিত পর্যায়েই আটকে রাখা সম্ভব হয়েছে।
8
9
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনে বাজারের দিক নির্ভর করবে মূলত আন্তর্জাতিক সংকেত, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর। বিশেষ করে মার্কিন ফেডের সুদের হার নিয়ে সিদ্ধান্ত এবং পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের মনোভাব নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
9
9
সব মিলিয়ে বলা যায় স্বল্পমেয়াদে বাজারে অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য এই সময়ে সতর্কতা অবলম্বন করা এবং বিশ্বের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।