অনেকের মধ্যেই একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে, 'যদি ব্যথা হয়, তাহলে সেটা ক্যানসার নয়' আর 'যদি ব্যথা না হয়, তাহলেই ক্যানসার হতে পারে।' এই ধারণা শুধু ভুলই নয়, অনেক সময় খুব বিপজ্জনকও হয়ে উঠতে পারে। কারণ ক্যানসার মানেই সবসময় ব্যথা হবে, এমন নয়। আবার ব্যথা হলেই যে ক্যানসার, সেটাও ঠিক নয়।


চিকিৎসকদের মতে, অনেক ক্যানসার প্রথম দিকে একেবারেই নিঃশব্দে বাড়তে থাকে। শরীরে কোনও ব্যথা থাকে না, তাই রোগী বুঝতেই পারেন না ভিতরে বড় সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে স্তন ক্যানসার, জরায়ুর ক্যানসার, কোলন ক্যানসার, প্রোস্টেট ক্যানসার বা মুখগহ্বরের কিছু ক্যানসার শুরুতে ব্যথাহীন হতে পারে। 


শুধু একটি ছোট গাঁট, অস্বাভাবিক রক্তপাত, হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া, দীর্ঘদিন ক্লান্ত লাগা, খিদে কমে যাওয়া, হজমের সমস্যা বা দীর্ঘদিন কাশি-এসবই হতে পারে প্রাথমিক লক্ষণ।


অনেক মানুষ ব্যথা না থাকায় এসব লক্ষণকে গুরুত্ব দেন না। ভাবেন, 'ব্যথা তো হচ্ছে না, নিশ্চয়ই বড় কিছু নয়।' এই অবহেলাই পরে বড় বিপদ ডেকে আনে। যখন ব্যথা শুরু হয়, তখন অনেক সময় রোগ অনেকটা এগিয়ে যায়।


আবার উল্টো দিকও আছে। শরীরে ব্যথা হলেই অনেকে খুব ভয় পেয়ে ভাবেন, এটা বুঝি ক্যানসার! কিন্তু সব ব্যথা ক্যানসার নয়। গ্যাস, সংক্রমণ, প্রদাহ, হরমোনের পরিবর্তন, পেশির টান, হাড়ের সমস্যা—এমন বহু সাধারণ কারণেও ব্যথা হতে পারে। তাই শুধু ব্যথা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।


বিশেষজ্ঞরা বলেন, ক্যানসারের ব্যথা সাধারণত তখন বেশি দেখা যায়, যখন টিউমার বড় হয়ে যায়, শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে, হাড়ে প্রভাব ফেলে বা স্নায়ুর ওপর চাপ সৃষ্টি করে। কখনও কখনও কেমোথেরাপি বা অন্যান্য চিকিৎসার কারণেও ব্যথা হতে পারে। অর্থাৎ ব্যথা অনেক সময় রোগের শুরুর লক্ষণ নয়, বরং পরে দেখা দেয়।


তাই শরীরের কোনও অস্বাভাবিক পরিবর্তনকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। অকারণে ওজন কমা, দীর্ঘদিনের কাশি, অস্বাভাবিক রক্তপাত, না সারানো ঘা, গাঁট, খাওয়ায় অসুবিধা বা হঠাৎ দুর্বলত-এসব লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।


সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হল 'ব্যথা আছে কি নেই” সেটাই ক্যানসার চেনার একমাত্র উপায় নয়। সচেতনতা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সময়মতো চিকিৎসাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা। ভুল ধারণা নয়, সঠিক তথ্যই জীবন বাঁচাতে পারে।