আজকাল ওয়েবডেস্ক: আবারও দিল্লিতে ভয়াবহ ঘটনা৷ লক্ষ্মীনগরে ঘটে গেল মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড। নিজের মা, ভাই এবং বোনকে খুনের অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। তবে ঘটনার চেয়েও বেশি পুলিশের নজর কেড়েছে অভিযুক্তের আচরণ। তিনজনকে শেষ করে দিয়ে ওই যুবক সোজা চলে যান স্থানীয় থানায়। সেখানে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের কাছে নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। ঘটনায় রীতিমত হতভম্ব সবাই৷
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের মধ্যে দু’জন মহিলা এবং এক জন পুরুষ। তাঁরা প্রত্যেকেই অভিযুক্তের পরিবারের সদস্য। যুবকের স্বীকারোক্তির পরেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ বাহিনী। ঘর থেকে তিনটি দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
ঠিক কী কারণে নিজের পরিবারের লোকেদের ওপর এমন নৃশংস হামলা চালালেন ওই যুবক, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বর্তমানে পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করে জিজ্ঞাসবাদ শুরু করেছে। পারিবারিক কোনও অশান্তি নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনও গভীর কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ঘটনার জেরে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। তদন্ত জারি রয়েছে৷
অন্যদিকে, খাস দিল্লিতে আরেক হাড়হিম করা হামলার ঘটনা ঘটল। ৪ জন দুষ্কৃতীর হাতে আক্রান্ত হল দুই তরুণ। ভরা বাজারে তাঁদের শরীরের একাধিক জায়গায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়েছে বলে অভিযোগ। গুরুতর জখম অবস্থায় বর্তমানে তাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনা ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে৷
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার বিকেলে জাহাঙ্গিরপুরী এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, আহতদের নাম অংশু ও বিমল। দু’জনেরই বয়স ১৮ বছর। সামাজিক মাধ্যমে এই হামলার একটি সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, রাস্তার ওপর তিন যুবক মিলে অংশু ও বিমলকে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর করছে এবং ছুরি দিয়ে কোপাচ্ছে। আর চতুর্থ জন সেই গোটা দৃশ্যটি নিজের মোবাইলে বন্দি করছে। কাজ শেষ করে এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয় অভিযুক্তরা।
ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আরও একটি ভিডিও সামনে আসে। সেখানে অভিযুক্তদের বলতে শোনা যায়, "ভাই, দুটো খুন করে ফেলেছি। এবার তিন নম্বরটা করব।" এই ভিডিওটি ঘিরে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। রীতিমতো ভীত সন্ত্রস্ত স্থানীয়রা।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, আহতদের কাছে এসে প্রথমে ‘সাহিল’ নামে এক ব্যক্তির পরিচয় জানতে চায় ওই চার অভিযুক্ত। বিমল ও অংশু তাকে চেনেন না বলে জানান। এরপর তাঁরা স্থানীয় ‘কে-ব্লকের’ বাসিন্দা কি না, তা জিজ্ঞাসা করে অভিযুক্তরা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই হঠাৎ ধারালো অস্ত্র বের করে দু’জনের ওপর হামলা চালায় তারা।
ঘটনার জেরে আহত দুই যুবক বর্তমানে লোকনায়ক জয়প্রকাশ নারায়ণ হাসপাতালে ভর্তি। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। দ্রুত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে৷
