আজকাল ওয়েবডেস্ক: টানা ২৪ দিন লড়াই করেও শেষরক্ষা হলনা৷ জীবন বাঁচানোই যাঁর পেশা, নিজের জীবনযুদ্ধে হার মানলেন সেই চিকিৎসকই। অ্যানেস্থেশিয়া ইঞ্জেকশনের মাত্রাতিরিক্ত প্রয়োগে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। ২৪ দিন পর মৃত্যু হল ভোপাল এইমসের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর রশ্মি বর্মার। সোমবার সকালে হাসপাতালের আইসিইউ-তেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। পুলিশের দাবি, ঘর থেকে উদ্ধার হওয়া চিঠিতে রশ্মি লিখে গিয়েছেন যে, তাঁর এই চরম সিদ্ধান্তের জন্য কেউ দায়ী নন।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত গত ১১ ডিসেম্বর। পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে খবর, সেদিন ডিউটি সেরে বাড়ি ফেরার পর নিজের শরীরে হাই অ্যানেস্থেশিয়া ইঞ্জেকশন প্রয়োগ করেন রশ্মি। পরিজনরা টের পেয়ে তড়িঘড়ি তাঁকে ভোপাল এইমস-এ নিয়ে যান। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছতে প্রায় ২৫ মিনিট দেরি হয়ে যায়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সেই দীর্ঘ সময়ে অন্তত সাত মিনিট তাঁর হৃদযন্ত্র স্তব্ধ হয়ে ছিল।

পরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনার পর চিকিৎসকরা প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে রশ্মির হৃদস্পন্দন পুনরায় ফিরিয়ে আনেন। কিন্তু টানা বেশ কিছুক্ষণ মস্তিষ্কে অক্সিজেন না পৌঁছনোর ফলে তাঁর অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গিয়েছিল বলে জানান চিকিৎসকরা। এরপর টানা ২৪ দিন ভেন্টিলেশনে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে সোমবার বেলা ১১টা নাগাদ হার মানেন তিনি।

এসিপি অদিতি ভাবসার জানান, রশ্মির ঘর থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে। সেখানে তিনি স্পষ্ট লিখেছেন, তাঁর মৃত্যুর জন্য যেন কাউকে হেনস্থা বা দোষারোপ না করা হয়। চিঠিটি বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো হয়েছে। পুলিশকে রশ্মির পরিজনরা জানিয়েছেন, বাবার মৃত্যুর পর থেকেই তিনি তীব্র মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। তবে কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ নিয়ে কোনওদিন কোনও অভিযোগ করেননি রশ্মি৷ 

উল্লেখ্য, রশ্মি বর্মা এইমসের এমার্জেন্সি ও ট্রমা বিভাগের অত্যন্ত জনপ্রিয় চিকিৎসক। বহু দরিদ্র রোগীর চিকিৎসার খরচ তিনি নিজেই বহন করতেন। হাসপাতালের সিপিআর প্রশিক্ষণ কর্মসূচির দায়িত্বেও ছিলেন তিনি। তাঁর স্বামী মনমোহন শাক্যও পেশায় চিকিৎসক। মেধাবী এই চিকিৎসকের এমন পরিণতিতে শোকস্তব্ধ ভোপালের চিকিৎসক মহল।