২০২৬ সালে সোনার দামের ক্ষেত্রে ১,৩৬,০০০ বিনিয়োগকারী ও বাজার বিশেষজ্ঞদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এই স্তরটি শুধুমাত্র একটি সংখ্যামাত্র নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, বিশ্বের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মুদ্রাস্ফীতি এবং বিনিয়োগকারীদের ধারা।
2
8
প্রথমত, টেকনিক্যাল অ্যানালিসিসের দৃষ্টিকোণ থেকে ১,৩৬,০০০ একটি শক্তিশালী রেজিস্ট্যান্স বা সাপোর্ট জোন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি চার্টে দেখা যাচ্ছে, সোনার দাম ধারাবাহিকভাবে উচ্চতর ‘হাই’ ও ‘লো’ তৈরি করছে। এই ঊর্ধ্বমুখী ট্রেন্ডে ১,৩৬,০০০ এমন একটি স্তর, যেখানে অতীতে বড় মুনাফা বুকিং হতে পারে। ফলে দাম এই স্তরের কাছে পৌঁছালে বাজারে বিক্রির চাপ বাড়তে পারে।
3
8
দ্বিতীয়ত, মনস্তাত্ত্বিক স্তর হিসেবেও এই দামটি গুরুত্বপূর্ণ। গোল সংখ্যার দাম সাধারণত বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে। অনেক বড় বিনিয়োগকারী ও ট্রেডাররা এই ধরনের স্তরে লাভ তুলে নিতে চান। আবার যদি এই স্তরটি যদি ভেঙে যায়, তাহলে তা বাজারে একটি শক্তিশালী বুলিশ সিগন্যাল দিতে পারে এবং নতুন উচ্চতায় যাওয়ার পথ খুলে দিতে পারে।
4
8
তৃতীয়ত, মুদ্রাস্ফীতি ও সুদের হারের ভূমিকা এই স্তরকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। যদি ২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না আসে বা বড় কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলো আবার নরম মুদ্রানীতি গ্রহণ করে, তাহলে সোনার মতো নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা বাড়বে। সেই পরিস্থিতিতে ১,৩৬,০০০ একটি মধ্যবর্তী গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।
5
8
চতুর্থত, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা সোনার দামে বড় ভূমিকা রাখে। যুদ্ধ, বাণিজ্য যুদ্ধ, বা বড় অর্থনৈতিক সংকটের সময় বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ ছেড়ে সোনার দিকে ঝুঁকে পড়েন। যদি ২০২৬ সালেও এমন অনিশ্চয়তা বজায় থাকে, তাহলে ১,৩৬,০০০ স্তরটি দ্রুত পরীক্ষার মুখে পড়তে পারে।
6
8
পঞ্চমত, ভারতীয় বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে, এই স্তরটি গয়না শিল্প ও খুচরো চাহিদার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এই দামে সোনা পৌঁছালে গয়নার চাহিদা কিছুটা কমতে পারে, কিন্তু বিনিয়োগমূলক চাহিদা বাড়তে পারে, বিশেষ করে ডিজিটাল গোল্ড ও গোল্ড ইটিএফে।
7
8
সব মিলিয়ে বলা যায় ১,৩৬,০০০ স্তরটি ২০২৬ সালে সোনার দামের ক্ষেত্রে একটি টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে। এই স্তর ধরে রাখতে পারলে দাম স্থিতিশীল হতে পারে, আর যদি এটি ভেঙে যায় তাহলে নতুন রেকর্ড উচ্চতার দরজা খুলে যেতে পারে।
8
8
তাই বিনিয়োগকারীদের উচিত এই স্তরটির দিকে বিশেষ নজর রাখা এবং ঝুঁকির বিষয়ে আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া। ২০২৬ সালে কত দ্রুত এই দাম ১ লাখ ৩৬ হাজার হবে সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন অর্থনীতির কারবারিরা।