আজকাল ওয়েবডেস্ক: তেলেঙ্গানায় মাদক পাচার ও নানা বেআইনি কাজে যুক্ত বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও কড়া করল প্রশাসন। বিপুল খরচ সত্ত্বেও অপরাধী বিদেশিদের চিহ্নিত করে নিজেদের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া জারি রেখেছে রাজ্যের পুলিশ।
সম্প্রতি তেলেঙ্গানা পুলিশের বিশেষ মাদক দমন শাখা ‘ইগল’- এর হাতে ধরা পড়েন নাইজেরীয় তরুণী ভিক্টরি ইতোহান ইয়াসেল। তদন্তে জানা গিয়েছে, তিনি মাদক ও মানব পাচারের মতো অপরাধে যুক্ত ছিলেন। শুধু তাই নয়, নিজের আসল পরিচয় লুকিয়ে জাল পাসপোর্ট ও ভিসা ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ভারতে থাকছিলেন তিনি। হায়দরাবাদের ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসে বায়োমেট্রিক পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁর জালিয়াতি ধরা পড়ে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় ৩৭ দিন ডিটেনশন সেন্টারে রাখার পর যাবতীয় আইনি প্রক্রিয়া সেরে তাঁকে নাইজেরিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, শুধুমাত্র এই এক জনকেই ফেরত পাঠাতে সরকারি কোষাগার থেকে খরচ হয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ১৮ হাজার টাকা।
২০২৫ সাল থেকে ২০২৬, এখনও পর্যন্ত মোট ৪১ জন বিদেশি অপরাধীকে এ ভাবেই ফেরত পাঠিয়েছে ‘ইগল’ ফোর্স। আধিকারিকদের মতে, প্রতিটি ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়ায় সরকারের এক লক্ষ টাকারও বেশি খরচ হচ্ছে, যা রাজকোষের ওপর বড় চাপ। দিল্লি ও গোয়া পুলিশের সঙ্গে যৌথ অভিযান চালিয়েও অনেককে আটক করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আরেকটি ঘটনায় ওয়ারঙ্গল থেকে আরও তিন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, দিল্লি ও অন্ধ্রপ্রদেশ হয়ে তেলেঙ্গানায় এসে তাঁরা বিলাসবহুল জীবনযাপন করছিলেন। এর পাশাপাশি আড়ালে মাদক কারবার চালাচ্ছিলেন। তাঁদের কাছেও জাল নথি পাওয়া গিয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, জননিরাপত্তা রক্ষা করতে এবং মাদকের জাল ছিঁড়ে ফেলতে এই ধরনের কড়া পদক্ষেপ ও ধরপাকড় জারি থাকবে।
