আজকাল ওয়েবডেস্ক: সারা শরীর থরথর করে কাঁপছে। দু’হাত জড়ো করে বসে আছেন। চোখ দিয়ে অঝোরে জল গড়াচ্ছে। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদেই চলেছেন। বিড় বিড় করে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছেন। ভয়ে তাঁর মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছে। ফ্লাই-৯১-এর একটি বিমানের যান্ত্রিক গোলযোগের ভয়াবহ দৃশ্যের এই ভিডিও সামনে এলে স্তম্ভিত হয়ে যায় নেটদুনিয়া।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, বিমান আইসি৩৪০১, রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুপুর ৩টের সময়ে ছাড়ে। হায়দরাবাদ থেকে হুব্বাল্লি বিমানবন্দরে বিমান নামতে সময় লাগার কথা ঘন্টা দেড়েক। অর্থাৎ বিমান অবতরণের নির্ধারিত সময় বিকেল ৪.৩০। কিন্তু মাঝ আকাশে হঠাৎই যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেয়। ফলে বিমান প্রায় চার ঘন্টা আকাশেই গোল গোল ঘুরতে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য এবং নিরাপদ অবতরণের জন্য বিমানটি মুন্ডগোড, দাভানাগেরে এবং শিবমোগ্গা অঞ্চলের উপর দিয়ে এলোমেলো ভাবে ঘুরতে থাকে আকাশে।
কিছু পরে পাইলট ঘোষণা করেন, ‘আমরা পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছি। আপনারা ধৈর্য্য ধরে বসুন। কী ঘটছে তা আপনাদের জানানো হবে।’ এরপরেই যাত্রীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তাঁরা ভয় পেয়ে যান। সেই সময়ে একজন যাত্রী তাঁর সহযাত্রীর ভিডিও করেন। সেখানে এক ভদ্রমহিলাকে প্রচন্ড ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থণা করতে দেখা যায়।
সেই ভিডিওতেই বারবার শোন যাচ্ছে ‘ওহ মাই গড (হে প্রভু)’ গোছের আর্তনাদ। সমস্ত বিমান জুড়ে ভয়ের নানান টুকরো টুকরো ছবি ধরা পড়েছে। কেউ বা আর্তনাদ করে বলছেন, ‘আরে! এরকম কেন করছেন উনি?’ কেউ বা চিৎকার করে পাশেরজনকে চুপ করতে বলছেন। নিজের কাছের মানুষকে কাঁদতে বারন করছেন কেউ কেউ।
একজন যাত্রীর কথায়, ‘পাইলটকে বলুন বেঙ্গালুরু নামাতে। নাহলে বেলগাঁওতেও যাওয়া যায়।’ তাঁর কথায় সহমত প্রকাশ করে কয়েকজন বলেন, ‘হ্যাঁ সেটাই তো কাছাকাছি।’ এরই মধ্যে যাত্রীদের উদ্দেশ্যে পাইলট জানান, বিমানটি বেঙ্গালুরু যাচ্ছে।
অন্যদিকে, যাত্রীদের পরিবারের সদস্যরা ফ্লাই৯১ এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, সংস্থার পক্ষ থেকে যথাযথ কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি। সম্পূর্ণ অবহেলা ছাড়া এমন হতে পারে না। অবশেষে, সমস্ত হয়রানির শেষে বিমানটি সন্ধ্যা প্রায় ৭.৩০ নাগাদ বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে।















