আজকাল ওয়েবডেস্ক: কর্মক্ষেত্রে সাজসজ্জার উপর নিষেধাজ্ঞা! দেশের নামী বেসরকারি উড়ান পরিষেবা সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়ার নির্দেশ ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। সপ্তাহের শুরুতেই সমাজমাধ্যমে প্রচারিত এয়ার ইন্ডিয়ার বিজ্ঞপ্তি নিয়ে আলোচনায় নেটনাগরিকেরা।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিমানে কেবিন ক্রু হিসাবে কর্মরতেরা কপালে কোনও টিপ বা কোনওরকম টিকা পরে কর্মক্ষেত্রে আসতে পারবেন না। পরা যাবে না লাল বা গেরুয়া রঙের সিঁদুরও। তবে এ ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড়ও রয়েছে। যদি কর্মীরা চান, তা হলে শাড়ির সঙ্গে ৫ মিলিমিটারের একটি টিপ পরতে পারেন। তবে ইন্দো-ওয়েস্টার্ন যে কোনওরকম পোশাকের সঙ্গে কোনও ভাবেই পরা যাবে না টিপ। কর্মীদের পোশাকআশাকের উপর এয়ার ইন্ডিয়ার এই বিধিনিষেধ নিয়ে এরপরই নিন্দার ঝড় উঠেছে সমাজমাধ্যমে। নেটনাগরিকেরা এই নিষেধাজ্ঞার পিছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে বলেও মনে করছেন। তাঁদের বক্তব্য, এয়ার ইন্ডিয়ার মতো নামী সংস্থা এ ভাবে প্রকাশ্যে তাঁদের অবস্থান না জানালেও পারত।

 

তবে এয়ার ইন্ডিয়া কার্যত অস্বীকার করেছে এই নির্দেশিকার কথা। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে তাদের মুখপাত্র জানিয়েছে, সমাজমাধ্যমে যা প্রচারিত হচ্ছে, তা অনেক পুরনো। সম্প্রতি এরকম কোনও নির্দেশিকা জারি করা হয়নি। কর্মীরা স্বচ্ছন্দে তাঁদের পছন্দ অনুযায়ী সাজগোজ করতে পারেন। পরতে পারেন দেশীয় বা পাশ্চাত্য পোশাকআশাক।

 

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি আরও একটি নামী চশমাপ্রস্তুতকারক সংস্থা -এর তরফেও এমন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল। তখনও সেই নির্দেশিকা ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল সমাজমাধ্যমে। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছিল, দোকানে কর্তব্যরতরা হিজাব পরতে পারবেন। তবে কপালে কোনও টিপ বা হাতে কোনও ধর্মীয় ইঙ্গিতবাহী প্রতীক রাখতে পারবেন না। সংস্থার এই নিয়মবিধি ঘিরে ঝড় উঠেছিল সমাজমাধ্যমে। শেষমেশ, সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান কার্যনির্বাহী কর্তা পীযূষ বনসাল প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন। এয়ার ইন্ডিয়া-র কর্মকর্তার মতো তিনিও দাবি করেন প্রচারিত বিধিটি পুরনো, যা বর্তমানে আর কার্যকর নেই। বদলে ফেলা হয়েছে নিয়মবিধি। একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্য, সংস্থায় কোনও ধর্মীয় ইঙ্গিতবাহী প্রতীকের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপিত নেই। কোনও ধর্মের প্রতি পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণে তাঁদের বিশ্বাস নেই। কোনও একটি নির্দিষ্ট ধর্মকে তোষণ করাও তাদের উদ্দেশ্য নয়। তিনি বলেন, "আমরা আদতে এরকম মূল্যবোধে বিশ্বাস করিনা। আমাদের সংস্থাতেও এরকম কোনও কর্মকাণ্ডের প্রতিফলন দেখা যায় না।"