অতীশ সেন: ডুয়ার্সের বড়দিঘি চা বাগানের ব্লেড দেওয়া তারে আটকে পড়া একটি চিতাবাঘকে উদ্ধার করলেন বনকর্মীরা। শুক্রবার সকালে ঘটনাটি ঘটে গরুমারা জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন দক্ষিণ ধূপঝোড়া এলাকায়। এদিন সকালে হঠাৎই স্থানীয় বাসিন্দারা দেখতে পান, একটি চিতাবাঘ চা বাগানের সীমানায় লাগানো লোহার তারে আটকে আছে। প্রাথমিকভাবে জঙ্গলি খরগোশ ধরার জন্য পাতানো ফাঁদে আটকে যায় চিতাবাঘটি। খবর পেয়ে বনদপ্তরের খুনিয়া ওয়াইল্ড লাইফ স্কোয়াড এবং ধূপঝোরা বিটের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। 

 

 

চিতাবাঘের উদ্ধারকাজে সহায়তা করতে মেটেলি থানার পুলিশও উপস্থিত হয়। বনকর্মীরা ঘুমপাড়ানি গুলি করে চিতাবাঘটিকে উদ্ধার করার সিদ্ধান্ত নেন। ঘটনাস্থলটি জাল দিয়ে ঘিরে ফেলে চিতাবাঘটিকে লাটাগুড়ি প্রকৃতিবীক্ষণ কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। বনদপ্তরের খুনিয়া ওয়াইল্ড লাইফ স্কোয়াডের রেঞ্জার সজল কুমার দে জানান, চিতাবাঘটি কোনওভাবে লোহার তারে আটকে গিয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য চিতাটিকে লাটাগুড়িতে নেওয়া হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশের পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বন্য জন্তু শিকার করতে চা বাগানের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে ফাঁদ পাতা হয়।

 

 

যদিও বনদপ্তর শিকার রোধে অভিযান চালাচ্ছে এবং প্রচার করছে, তবুও শিকারের এই প্রবণতা পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। চা বাগানগুলিতে লাগানো ধারালো ব্লেড যুক্ত তারের বেড়া বন্য জীবজন্তুর স্বাভাবিক গতিবিধি ব্যাহত করছে। বিশেষ করে হাতি, বাইসন, চিতাবাঘ, এবং হরিণসহ অন্যান্য প্রাণীর উপর প্রভাব ফেলছে। বনদপ্তর একাধিকবার চা বাগান কর্তৃপক্ষকে এই ধারালো তার খুলে ফেলার নির্দেশ দিলেও বেশিরভাগ জায়গায় তা পালন করা হয়নি। চা বাগান কর্তৃপক্ষের এই আচরণে ক্ষুব্ধ অনেকেই।