আজকাল ওয়েবডেস্ক: মোহনবাগানের দায়িত্ব নেওয়ার পরই ডার্বি নিয়ে ভাবতে শুরু করেছেন পানাগিওটিস দিলমপেরিস। বড় ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে এবারের ডুরান্ড কাপ। একইসঙ্গে গ্রিক কোচের রাজও। শুরুতেই অগ্নিপরীক্ষা। ডার্বি। সেই ভাবনা ঢুকে পড়েছে তাঁর মাথায়। ভারতীয় ফুটবলে কোচিং করানোর সুবাদে, ডার্বির একটি আঁচ পেয়েছেন। সেখানে সবুজ মেরুনে কোচিং শুরু করার এক সপ্তাহের মধ্যেই নামতে হবে ডার্বিতে। কতটা কঠিন? পানাগিওটিস বলেন, 'ফুটবল দাঁড়িয়েই আছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিতার ওপর। আর ভারতে আসার পরই জেনে গিয়েছি কলকাতা ডার্বি বিশ্বফুটবলের অন্যতম বৃহত্তম এবং সবচেয়ে ঐতিহাসিক ম্যাচগুলোর একটা। সমর্থক, ফুটবলার এবং ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের কাছে এর গুরুত্ব কতটা, আমি জানি। এইধরনের ম্যাচের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করার সেরা উপায় কেবল আবেগ নয়, বরং চমৎকার প্রস্তুতি, শৃঙ্খলা এবং আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামা। আমরা প্রতিপক্ষকে সম্মান করব। তবে একই সঙ্গে মোহনবাগানের ঐতিহ্যের সঙ্গে মানানসই সাহসিকতা নিয়ে এই ডার্বি জিততেও চাইব।'
মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের হেড কোচের হটসিটে এবার বসবেন পানাগিওটিস দিলমপেরিস। প্যানোস নামে যিনি পরিচিত। গ্রিক কোচের সঙ্গে এক বছরের চুক্তি হল সবুজ মেরুনের। গ্রিসের প্রথম ডিভিশনের বিভিন্ন ক্লাবে কোচিং করানোর পর দু'বছর আগে ভারতে এসে পঞ্জাব এফসির দায়িত্ব নিয়েছিলেন। পঞ্জাবের নতুন দলকে কোচিং করিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ফুটবলপ্রেমীদের আকর্ষণীয় ফুটবল উপহার দিয়েছিলেন সবুজ মেরুনের নতুন হেডস্যার। ইন্ডিয়ান সুপার লিগে নতুন বিদেশি এবং যুব ফুটবলারদের নিয়ে কম ক্ষমতাসম্পন্ন দল গড়েও নজর কেড়েছিল তাঁর স্ট্র্যাটেজি। মূলত আক্রমনাত্মক ফুটবল দর্শনে বিশ্বাসী প্যানোস। ৫১ বছর বয়সী এই কোচের সুবিধা, তিনি সিনিয়র এবং জুনিয়র ফুটবলারদের নিয়ে দলে সমন্বয় ঘটিয়ে সফল হওয়ার ক্ষমতা রাখেন। সেজন্যই তাঁর হাতে নতুন মরশুমের দল পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোহনবাগান ম্যানেজমেন্ট। চুক্তিতে সই করার পর তাঁর ফুটবল দর্শন, তারকা সমৃদ্ধ দল নিয়ে ভাবনার কথা জানান পানাগিওটিস দিলমপেরিস।
একাধিক ক্লাবের প্রস্তাব থাকা সত্ত্বেও কেন মোহনবাগানকে বেছে নিলেন? প্যানোস বলেন, 'আসলে মোহনবাগান শুধুমাত্র একটা ফুটবল ক্লাব নয়, একটা ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। যার সঙ্গে রয়েছে গৌরবময় ইতিহাস, জয়ের সংস্কৃতি এবং এশিয়ার অন্যতম সেরা আবেগপ্রবণ এবং অনুরাগী সদস্য সমর্থক। যা ভারতের আর কোনও ক্লাবের নেই।' মোহনবাগানের কোটি কোটি সমর্থক রয়েছেন বিশ্বজুড়ে, যাদের প্রত্যাশাও প্রচুর। গত কয়েকবছর একটানা সাফল্যের পর আগের বছর আইএসএল হাতছাড়া হয়েছে। এবার আবার ট্রফির সরণিতে ফেরার চাপ। কর্তা থেকে সমর্থক, বিশাল প্রত্যাশার চাপ কীভাবে সামলাবেন বাগানের নতুন কোচ?
প্যানোস বলেন, 'বিশ্বের সব বড় ক্লাবগুলোতেই প্রত্যাশা সবসময়ই আকাশচুম্বী থাকে। সেটাই স্বাভাবিক। মোহনবাগান সমর্থকদের এই আবেগই ক্লাবের অন্যতম প্রধান শক্তি। আমাদের দায়িত্ব হল কঠোর পরিশ্রম, পেশাদারিত্ব এবং মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে প্রতিদিন বিশ্বাস অর্জন করা। আমরা হয়ত প্রতি সপ্তাহে জয়ের প্রতিশ্রুতি দিতে পারব না। কিন্তু আমরা এমন একটা দল হয়ে উঠতে চাই, যারা সাহসিকতা, শৃঙ্খলা এবং প্রত্যেক ম্যাচ জেতার তীব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মাঠে নামবে, লড়াই করবে।' অতীতের সাফল্য মাথায় রেখে ভবিষ্যতে এগোতে চান প্যানোস। তারমধ্যে শুরুতেই মোকাবিলা করতে হবে ক্লাবের অন্যতম সফল কোচ আন্তনিও লোপেজ হাবাসের সঙ্গে। তবে এবার লাল হলুদের হটসিটে থাকবেন তিনি। ডার্বি হারের নজির নেই। পরিসংখ্যান নিয়ে অবশ্য ভাবছেন না মোহনবাগানের নতুন কোচ। সাহসিকতা এবং শৃঙ্খলা দিয়ে ডার্বিতে বাজিমাত করতে চান।















