আজকাল ওয়েবডেস্ক: নাবালিকার দেহ উদ্ধার এবং অভিযুক্ত যুবককে গণপিটুনিতে খুনের অভিযোগে উত্তপ্ত বারুইপুর। ১২ বছরের নাবালিকার দেহ উদ্ধার ঘিরে আগেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। এবার অভিযুক্ত যুবকের মৃত্যু ঘিরে শোরগোল এলাকায়। 

 

নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ তোলে তার পরিবার। নিঁখোজ থাকার পর বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনার পরেই পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর, ঘটনার প্রতিবাদে আগুন জ্বালিয়ে পথ অবরোধ করেন স্থানীয়রা। বিক্ষোভ তুলতে মাইকে আবেদন করে পুলিশ। 

 

নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত যুবককে সন্দেহের বশে গণপিটুনি স্থানীয়দের। তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষণা করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে রবিবার সকালে ইন্দ্রজিৎ তাঁতি (২৬) নামে এক যুবককে আটক করে গণপিটুনি দেওয়া হয়। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। 

 

পুলিশ জানিয়েছে, গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনাটিও পৃথকভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিশের দাবি, এই ঘটনায় একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনায় আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারে। সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

 

প্রসঙ্গত, আজ রবিবার সকালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর থানার ধপধপি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের সূর্যপুর হাট এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বাড়ির অদূরে একটি পুকুর থেকে উদ্ধার হয় ওই নাবালিকার দেহ। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বারুইপুর থানার পুলিশ। এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। 

 

পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, গতকাল শনিবার বিকেল প্রায় চারটে নাগাদ খাবার কেনার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল ওই নাবালিকা। দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও সে বাড়ি না ফেরায় চিন্তিত হয়ে পড়ে পরিবার। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করা হলেও রাতভর তার কোনও সন্ধান মেলেনি। 

 

এরপর আজ সকালে সূর্যপুর হাট এলাকার একটি পুকুরে একটি দেহ ভাসতে দেখতে পান। খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে ভিড় জমে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা সেখানে পৌঁছে দেহটি ওই নাবালিকার বলে শনাক্ত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতেই মৃত্যুর সঠিক কারণ এবং ধর্ষণের অভিযোগ সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য সামনে আসবে বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি।