আজকাল ওয়েবডেস্ক: ‘ল্যান্ড জিহাদ, লাভ জিহাদ আর জোর করে ধর্ম পরিবর্তন করার বিরুদ্ধে কঠোর আইন চালু হবে বাংলায়। কঠিন আইন আনবে এই সরকার।’
শুক্রবার রবীন্দ্র সদনে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার সিটিজেন এমপাওয়ারমেন্ট ফোরাম-এর উদ্যোগে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ১৮৯ তম জন্মজয়ন্তী ও রাষ্ট্রগীত "বন্দে মাতরম্" এর ১৫০ তম বর্ষপূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
সেখান থেকেই মুখ্যমন্ত্রী এই বড় ঘোষণা করেন। তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গেও আগামী দিনে আপনাদের সরকার ইউনিফর্ম সিভিল কোড ইউসিসি আসবে। বলেন, ‘সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে আমরা হোল্ডিং স্টেশন তৈরি করেছি। যারা ভারতীয় সংস্কৃতি, সনাতন সংস্কৃতি, রাষ্ট্রবাদ নষ্ট করার জন্য খোলা সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গ প্রবেশ করে শুধু পশ্চিমবঙ্গে ল্যান্ড জিহাদ, লাভ জিহাদ, ধর্ম পরিবর্তন এবং নানা ধরনের জিহাদি কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বাংলা তথা দেশকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছে বা করছে তাদেরকে হোল্ডিং স্টেশনে রেখে সরাসরি তাদের যেখান থেকে এসেছিল সেখানে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
বিএসএফকে জমি হস্তান্তর প্রসঙ্গেও শুভেন্দু জানান, পশ্চিমবঙ্গকে সুরক্ষিত করতেই এই পদক্ষেপ। রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই এই ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথমেই পশ্চিমবঙ্গকে সুরক্ষিত করতে চেয়েছি। আমরা সীমান্তে প্রয়োজনীয় জমি বিএসএফের হাতে তুলে দিয়েছি, তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়াতে আছি। যাতে জাতীয় সুরক্ষা যা বিপন্ন হচ্ছিল সেখান থেকে আমরা বাঁচাতে পারি আমাদের দেশকে এবং আমাদের এই বঙ্গভূমিকে।’
সিএএ নিয়েও মুখ খোলেন তিনি। বলেন, ‘ধর্ম বাঁচানোর জন্য, নিজের পরিচয়কে বাঁচানোর জন্য সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট সিএএ এর আওতায় হিন্দু সহ যারা এসেছেন তাঁরা অনুপ্রবেশকারী নন। তাঁরা শরণার্থী। তাদেরকে আমরা ভারত মাতার কোলে সুরক্ষিত আশ্রয় প্রদান করব।’
প্রসঙ্গত, ক্ষমতায় আসার পর রাজ্য সরকারের তরফে স্কুলে, কলেজে প্রার্থনা সঙ্গীত হিসেবে বন্দে মাতরম গাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এর মধ্যেই বিদ্যালয়ে, কলেজে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, সরকারি সাহায্য প্রাপ্ত সমস্ত প্রতিষ্ঠানে বন্দে মাতরমকে প্রার্থনা সঙ্গীতে কার্যকর করেছি। আমরা দেখছি গাইতে তো বাধ্য হচ্ছে, মানে দাঁড়াতে তো বাধ্য হচ্ছে। অনেকের ঠোঁট নড়ছে না। সেটাও হবে দেখে নেবেন।’
সমাজবিরোধী কাজের ক্ষেত্রেও কড়া হুঁশিয়ারি দেন তিনি। বলেন, ‘কোনও রাষ্ট্রবিরোধী কাজ হবে না। আপনারা দেখবেন এই রাজ্যের মধ্যে থেকে যারা অপারেশন সিঁদুরে সেনাবাহিনীকে অপমান করে, দেশকে অপমান করে, পহেলগাঁওয়ের হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করে না, অথচ মানবতার কথা বলে। এসব জিনিস আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে কোনওভাবেই চলতে দেওয়া হবে না।’













