আজকাল ওয়েবডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে সোমবার সকালে হঠাৎ শিক্ষা দপ্তরে হাজির হন বিজেপি বিধায়করা। উপস্থিত ছিলেন শঙ্কর ঘোষ ও স্বপন দাশগুপ্ত সহ অন্যান্যরা। বেশ কিছুক্ষণ তাঁরা সেখানে বৈঠক করেন। সূত্রের খবর, রাজ্যের শিক্ষার হাল ফেরাতে একাধিক বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। 

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিধায়র শঙ্কর বলেন, “শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে নবনির্বাচিত বিধায়কদের মধ্যে যারা শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তাঁদের দল শিক্ষা সচিবের সঙ্গে বিভিন্ন অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষা ক্ষেত্রে গৌরব ঐতিহাসিক অধ্যায় তৈরি করেছিল সেই পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষার মান, শিক্ষার গৌরব ধুলোয় মিশে গিয়েছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে দুর্নীতি সকলের কাছে আলোচনার বিষয়। শিক্ষা ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা কাজ করব। শিক্ষা সংক্রান্ত আমাদের যে দায়বদ্ধতা আমাদের কাজের মধ্যে দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করা জন্য সবার সহযোগিতা চাইছে।”

তিনি আরও বলেন, “অনেক প্রস্তাব এসেছে। সমস্যা অনেক রয়েছে। আমরা এমনই একটি অভাগা রাজ্যে বাস করছিলাম যেখানে শিক্ষামন্ত্রীকে জেলে যেতে হয়েছে। যে রাজ্যে রবীন্দ্রনাথ, নজরুলের ভাষায় পরিচিত সেই রাজ্য অনুব্রত, আরাবুলের পাতায় আজ সমন্বিত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষা-সংস্কৃতি-গৌরব আমরা ফিরিয়ে আনতে চাই। আমাদের জনপ্রতিনিধিরা যারা শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক স্তর পর্যন্ত বেশ কিছু অভিজ্ঞতা আছে নিজস্ব সেগুলি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু বাকিটা মুখ্যমন্ত্রী বলবেন। সিলেবাসের ব্যাপারেও পর্যালোচনা করা হবে।”

শঙ্কর আরও বলেন, “সরকারের পলিসি তৈরি করার ক্ষেত্রে আমাদের কিছু পদ্ধতিগত জায়গা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যেহেতু শিক্ষামন্ত্রী দায়িত্বে রয়েছে তাই পলিসিমেকার হিসেবে উনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন এবং জানাবেন।”

বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, “শিক্ষা নিয়ে সমাজের মধ্যে ভীষণ চিন্তা রয়েছে। শিক্ষার ক্ষেত্রে যে ধরনের সঙ্কট আমরা দেখতে পাচ্ছি। সেটা সামাজিকস্তরে প্রতিফলন পড়ছে। এই দপ্তরের বিরাট দায়িত্ব রয়েছে। আজ পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি পুনর্জীবনের যে কথা বলছে, সেখানে শিক্ষার খুব গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে। স্কুলশিক্ষা এবং উচ্চশিক্ষা দুটোই দেখা হচ্ছে। বিধায়করা এই শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে অনেক কথা বলেছে। সেই সমস্ত বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে জানাবো। উচ্চশিক্ষার বিষয়ও অনেক সমস্যা দেখা গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে উচ্চশিক্ষাকে আগের যে স্থান ছিল, সেই স্থানে ফিরিয়ে আনাটাই আমাদের লক্ষ্য।”

শিক্ষা দপ্তরের নির্দিষ্ট মন্ত্রী এখনও ঠিক হয়নি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর হাতে রয়েছে এই দপ্তর। স্বাস্থ্য থেকে শিক্ষা, বিভিন্ন দপ্তরের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার জন্য বেশ কয়েকজন বিধায়কদের নিয়ে দল তৈরি করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই দলগুলি বিভিন্ন দপ্তরে যাচ্ছে। সোমবার সকালে ১১টা নাগাদ বিকাশ ভবনে হাজির হন বিধায়করা। দলে ছিলেন শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ, রাসবিহারীর বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্ত-সহ অনেকেই। শিক্ষাসচিব বিনোদ কুমার-সহ স্কুলশিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা দপ্তরের বিভিন্ন আধিকারিকরা ছিলেন ওই বৈঠকে।