কৃশানু মজুমদার: বিশ্বকাপের মঞ্চে ফের একবার নিজেদের শক্তি দেখাচ্ছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে এবং কোচ লিওনেল স্কালোনির পরিকল্পনায় নীল-সাদা জার্সিধারীরা দারুণ উজ্জ্বল।
২০২২ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা ২০২৬ বিশ্বকাপেও শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলছে। গ্রুপ পর্বে দুরন্ত পারফরম্যান্সের পর রাউন্ড অফ ৩২ নিশ্চিত করে ফেলেছে আর্জেন্টিনা। এবার তাদের সামনে কেপ ভার্দে। তার আগে অবশ্য রবিবার ভারতীয় সময় সকাল সাড়ে সাতটায় বল গড়াবে সেই ম্যাচের।
এই আর্জেন্টিনা শিবিরের সঙ্গে রয়েছে কলকাতা যোগ। কীভাবে? ভারতীয় ফুটবলে পরিচিত আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। এই স্প্যানিশ কোচের নাম এখন ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। অস্কার ব্রুজোঁর পরে ইস্টবেঙ্গল নতুন কোচের সন্ধানে রয়েছে। ইস্টবেঙ্গলের হটসিটে বসার দৌড়ে রয়েছেন হাবাস। খুব শীঘ্রই ইস্টবেঙ্গল তাদের নতুন কোচের নাম ঘোষণা করতে পারে। আবার মোহনবাগানের টিডি হিসেবে ভাসছে অভিজ্ঞ কোচের নাম। আইএসএলের অন্যতম সফল কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। তিনিও এক অপেক্ষায়।
আর সেই অপেক্ষার মাঝেই বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনাকে দেখে নস্ট্যালজিক হয়ে পড়েছেন হাবাস। কারণ স্কালোনির কোচিং স্টাফে থাকা এমন দু’জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব রয়েছেন, যাঁদের সঙ্গে অভিজ্ঞ হাবাসের রয়েছে পুরনো সম্পর্ক। আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির দুই সহকারী পাবলো আইমার এবং আয়ালা, দু’জনেই একসময় হাবাসের ছাত্র ছিলেন।
ভ্যালেন্সিয়ায় হাবাস কোচ থাকার সময়ে এই দুই প্রতিভাবান ফুটবলারকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন। তাঁদের কোচ ছিলেন অভিজ্ঞ হাবাস। আজ যখন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে দৌড়চ্ছে, তখন স্বাভাবিকভাবেই গর্ব অনুভব করছেন হাবাস।
বিশেষ করে পাবলো আইমারকে নিয়ে আলাদা আবেগ রয়েছে হাবাসের। আর্জেন্টিনার প্রাক্তন তারকা এই ফুটবলার সম্পর্কে তাঁর মূল্যায়ন, আইমার অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী ছিল। মাঠে তাঁর দক্ষতা, ফুটবল বোঝার ক্ষমতা এবং সৃজনশীলতা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছিল।
হাবাসের কথায়, “ভ্যালেন্সিয়ায় আইমার আর আয়ালা আমার ফুটবলার ছিল।''
একদিকে ইস্টবেঙ্গলের নতুন কোচের চেয়ারে বসার অপেক্ষায় আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। অন্যদিকে বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনার দাপট দেখতে গিয়ে ফিরে আসছে পুরনো স্মৃতি। স্কালোনির কোচিং স্টাফে থাকা পাবলো আইমার ও আয়ালার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শুধু ফুটবলের নয়, গুরু-শিষ্যের। ভ্যালেন্সিয়ায় যাঁদের প্রতিভা কাছ থেকে দেখেছিলেন হাবাস, আজ তাঁরাই মেসিদের বিশ্বজয়ের স্বপ্নপূরণের অন্যতম কারিগর। তাই আর্জেন্টিনার সাফল্যের গল্পে কোথাও যেন জড়িয়ে যাচ্ছে ইস্টবেঙ্গল, হাবাস এবং আইমার-আয়ালার পুরনো সেই ফুটবল-যোগ।















