হার্ট ঠিকমতো কাজ করতে গেলে নিয়মিত অক্সিজেন দরকার। কিন্তু অনেক সময় হৃদযন্ত্রে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছয় না। এই অবস্থাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় মায়োকার্ডিয়াল ইস্কেমিয়া। সহজভাবে বললে, হার্টে রক্ত ও অক্সিজেন কম পৌঁছলে এই সমস্যা হয়। এর প্রধান কারণ হল হৃদযন্ত্রের ধমনিতে চর্বি জমে ব্লক হয়ে যাওয়া বা রক্ত চলাচল কমে যাওয়া।
এই সমস্যা খুব সাধারণ মনে হলেও একেবারেই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। কারণ সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে এটি বড়সড় হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই শরীরের কিছু লক্ষণ আগে থেকেই চিনে রাখা খুব জরুরি।
সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হল বুকের ব্যথা বা চাপ। বুকের মাঝখানে ভারী লাগা, চাপ অনুভব করা বা জ্বালাপোড়া হওয়া—এসবই হতে পারে সতর্কবার্তা। অনেক সময় এই ব্যথা বাম হাত, কাঁধ, ঘাড় বা চোয়াল পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়। অনেকেই এটাকে গ্যাস বা অম্বল ভেবে এড়িয়ে যান, যা বড় ভুল।
শ্বাসকষ্টঃ অল্প হাঁটাহাঁটি বা সিঁড়ি ভাঙতেই যদি হাঁপ ধরে যায়, বা বিশ্রাম নিলেও ঠিকমতো নিঃশ্বাস নিতে না পারেন, তাহলে সতর্ক হওয়া দরকার। এটি হার্টে অক্সিজেনের ঘাটতির ইঙ্গিত হতে পারে।
অস্বাভাবিক ক্লান্তিঃ কোনও ভারী কাজ না করেও সারাদিন ক্লান্ত লাগা, শরীরে শক্তি না থাকা—এসব অনেক সময় হার্টের সমস্যার লক্ষণ। বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে এই লক্ষণ বেশি দেখা যায়।
মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার প্রবণতাঃ রক্ত সঠিকভাবে মস্তিষ্কে পৌঁছতে না পারলে এমনটা হয়। হঠাৎ করে চোখে অন্ধকার দেখা বা ভারসাম্য হারানোও সতর্ক সংকেত।
হঠাৎ ঠান্ডা ঘাম হওয়াঃ কোনও কারণ ছাড়াই ঘেমে যাওয়া, বিশেষ করে যদি তার সঙ্গে বুকের অস্বস্তি থাকে, তাহলে একে অবহেলা করা ঠিক নয়।
এই ধরনের কোনও লক্ষণ দেখলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত। পাশাপাশি জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনাও জরুরি। নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম করা, তেল-ঝাল কম খাওয়া, ধূমপান ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা এবং মানসিক চাপ কমানো।
মনে রাখবেন, শরীর আগে থেকেই সংকেত দেয়। সেই সংকেতগুলোকে গুরুত্ব দিলে বড় বিপদ অনেকটাই এড়ানো















