মাত্র ২৫ বছর বয়সে যদি কেউ বিনিয়োগ শুরু করেন এবং প্রতি মাসে ৯,০০০ করে একটি সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যানে ধারাবাহিকভাবে টাকা রাখেন, তাহলে ৪৫ বছর বয়সে অবসর নিয়ে মাসে ২ লক্ষ পেনশন পাওয়ার লক্ষ্য আর কল্পনা নয়—বরং পরিকল্পিত বাস্তব হতে পারে। সাম্প্রতিক হিসাব বলছে, ২০ বছরে এই নিয়মিত বিনিয়োগ থেকে প্রায় ৩.৬৪ কোটি টাকার ফান্ড তৈরি করা সম্ভব।
2
8
এই হিসাবের ভিত্তি কী? ধরা হয়েছে, এসআইপি গড়ে বছরে ১২% রিটার্ন পাওয়া যাচ্ছে। এই হারে ২০ বছরে মোট বিনিয়োগ হবে ২১.৬ লক্ষ (৯,০০০ x ১২ x ২০), কিন্তু চক্রবৃদ্ধি সুদের জাদুতে এই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৩,৬৪,৯২,৯৭২। অর্থাৎ, বিনিয়োগের তুলনায় রিটার্নের অংশই হবে অনেক বেশি।
3
8
এবার প্রশ্ন—এই টাকায় কীভাবে মাসে ২ লক্ষ পেনশন সম্ভব? এখানেই আসে সিস্টেমেটিক উইথড্রয়াল প্ল্যান। ৪৫ বছর বয়সে অবসর নেওয়ার পর যদি এই ৩.৬৪ কোটি টাকা এমনভাবে বিনিয়োগ রাখা হয় যাতে গড়ে ৮% রিটার্ন আসে, তাহলে সেই ফান্ড থেকে প্রতি মাসে ২ লক্ষ করে ৪০ বছর তোলা সম্ভব হতে পারে।
4
8
তবে এখানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। প্রথমত, এসআইপি রিটার্ন স্থির নয়—বাজারের ওঠানামার উপর নির্ভর করে। তাই ১২% রিটার্ন ধরে হিসাব করা হলেও বাস্তবে তা কম-বেশি হতে পারে।
5
8
দ্বিতীয়ত, অবসর-পরবর্তী সময়েও বিনিয়োগ সঠিকভাবে পরিচালনা করা প্রয়োজন, যাতে ফান্ড দ্রুত শেষ না হয়ে যায়।
6
8
আরেকটি বড় ফ্যাক্টর হল মূল্যস্ফীতি। আজকের ২ লক্ষের মূল্য ২০ বছর পরে অনেকটাই কমে যেতে পারে। তাই শুধু টার্গেট অঙ্ক নয়, তার ক্রয়ক্ষমতাও বিবেচনা করা দরকার। সেই কারণে অনেক আর্থিক পরামর্শদাতা এসআইপি-র পরিমাণ সময়ের সঙ্গে বাড়ানোর পরামর্শ দেন।
7
8
সবশেষে বলা যায় এই ধরনের লক্ষ্য অর্জনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল শৃঙ্খলা ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি। মাঝপথে এসআইপি বন্ধ করে দিলে বা ঘন ঘন পরিবর্তন করলে এই ধরনের বড় করপাস তৈরি করা কঠিন হয়ে যায়।
8
8
সুতরাং, ২৫ বছর বয়স থেকেই যদি নিয়মিত ৯,০০০ বিনিয়োগ করা যায়, এবং সঠিক কৌশল মেনে চলা হয়, তাহলে ৪৫-এ আর্থিক স্বাধীনতা অর্জন একেবারেই অসম্ভব নয়। পরিকল্পনা, ধৈর্য এবং ধারাবাহিকতা—এই তিনেই লুকিয়ে রয়েছে আগামীর নিশ্চিন্ত জীবনের চাবিকাঠি।