বিশ্বব্যাপী আইটি খাতে যখন পুনর্গঠনের ঢেউ চলছে, ঠিক সেই সময়েই বড়সড় ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করছে মার্কিন আইটি পরিষেবা সংস্থা কগনিজেন্ট। সংস্থাটি প্রায় ১৫,০০০ কর্মী ছাঁটাই করতে পারে বলে খবর, যার সবচেয়ে বড় ধাক্কা লাগতে পারে ভারতের কর্মীদের উপর।
2
8
সূত্রের খবর, ক্লায়েন্টদের খরচ কমে যাওয়া, অটোমেশন বাড়া এবং দ্রুত গতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ার ফলে ব্যবসার ধরন বদলাচ্ছে। এর ফলেই সংস্থাগুলি খরচ কমাতে এবং দক্ষতা বাড়াতে কর্মীসংখ্যা কমানোর পথে হাঁটছে। এরাও সেই একই পথে এগোচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
3
8
ভারত কগনিজেন্টের অন্যতম বড় কর্মীভিত্তিক দেশ। এখানে লক্ষাধিক কর্মী কাজ করেন। ফলে যেকোনও ধরনের ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত এদেশে বড় প্রভাব ফেলবে, তা বলাই বাহুল্য। বিশেষ করে মিড-লেভেল এবং সাপোর্ট রোলের কর্মীদের উপর ঝুঁকি বেশি থাকতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।
4
8
আইটি শিল্পে এই পরিবর্তনের পেছনে মূল চালিকা শক্তি হল এআই এবং অটোমেশন। অনেক কাজ, যা আগে মানুষের দ্বারা করা হত, এখন মেশিন বা সফটওয়্যারই দ্রুত ও কম খরচে করে ফেলছে। ফলে সংস্থাগুলি নতুন দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী চাইছে, আবার পুরনো কিছু ভূমিকা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ছে।
5
8
এছাড়া, বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার কারণে বড় বড় ক্লায়েন্টরা আইটি খাতে খরচ কমাচ্ছে। নতুন প্রজেক্টের সংখ্যা কমছে, পুরনো প্রজেক্টেও বাজেট কাটছাঁট হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে আইটি পরিষেবা সংস্থাগুলির আয়ের উপর। তাই লাভ ধরে রাখতে খরচ কমানো এখন প্রায় বাধ্যতামূলক হয়ে উঠেছে।
6
8
তবে এই পরিস্থিতি পুরোপুরি নেতিবাচক নয়। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এটি একটি “ট্রানজিশন ফেজ”। যারা দ্রুত নতুন প্রযুক্তি—বিশেষ করে এআই, ডেটা সায়েন্স, ক্লাউড কম্পিউটিং—শিখে নিজেদের আপডেট করতে পারবেন, তাদের জন্য ভবিষ্যতে নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
7
8
কর্মীদের জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল স্কিল আপগ্রেড করা এবং বাজারের চাহিদা বুঝে নিজেকে প্রস্তুত রাখা। কারণ আইটি শিল্পে পরিবর্তন এখন নিয়মিত ঘটনা, এবং টিকে থাকতে গেলে সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলাই একমাত্র উপায়।
8
8
সব মিলিয়ে বলা যায় কগনিজেন্টের সম্ভাব্য এই ছাঁটাই শুধু একটি সংস্থার সিদ্ধান্ত নয়—এটি গোটা আইটি শিল্পের বদলে যাওয়া বাস্তবতারই প্রতিফলন।