মহিলাদের মধ্যে হাড় ক্ষয় এখন খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় অস্টিওপরোসিস। সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হল, এই রোগটি অনেক সময় চুপচাপ শরীরে বাড়তে থাকে। শুরুতে তেমন কোনও লক্ষণই ধরা পড়ে না। তাই একে অনেকেই 'সাইলেন্ট ডিজিজ' বলেন।
এই রোগে ধীরে ধীরে হাড়ের ঘনত্ব কমে যায়। ফলে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সামান্য আঘাত বা পড়ে গেলেই ভেঙে যেতে পারে। বিশেষ করে মেনোপজের পর মহিলাদের শরীরে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে এই সমস্যার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।
তবে কিছু লক্ষণ রয়েছে, যেগুলো আমরা প্রায়ই এড়িয়ে যাই। যেমন-
হঠাৎ করে উচ্চতা একটু কমে যাওয়া। অনেকেই ভাবেন এটা বয়সের কারণে, কিন্তু এটা হাড় ক্ষয়ের ইঙ্গিত হতে পারে।
প্রায়ই পিঠ বা কোমরে ব্যথা হওয়া, বিশেষ করে কোনও কারণ ছাড়াই।
শরীরের ভঙ্গি বদলে যাওয়া, যেমন ধীরে ধীরে কুঁজো হয়ে যাওয়া।
সামান্য ধাক্কা লাগলেই হাড়ে চোট পাওয়া বা ভেঙে যাওয়া।
দাঁত দুর্বল হয়ে যাওয়া বা নখ খুব সহজে ভেঙে যাওয়া। এগুলিও হাড়ের সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
এই লক্ষণগুলোকে ছোট করে দেখলে পরে বড় বিপদ হতে পারে। অনেক সময় মানুষ বুঝতেই পারে না যে তার হাড় দুর্বল হয়ে গিয়েছে, যতক্ষণ না হঠাৎ করে ফ্র্যাকচার হয়।
তবে কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললে এই রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। প্রতিদিন ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার খাওয়া খুব জরুরি যেমন দুধ, দই, ডিম, ছোট মাছ। এর সঙ্গে ভিটামিন ডি-ও প্রয়োজন, যা সূর্যের আলো থেকে পাওয়া যায়। তাই প্রতিদিন কিছুটা সময় রোদে থাকা ভাল।
নিয়মিত হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করলে হাড় শক্ত থাকে। বিশেষ করে সিঁড়ি ওঠা-নামা বা ওজন নিয়ে ব্যায়াম করলে উপকার হয়। পাশাপাশি ধূমপান ও মদ্যপান এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এগুলো হাড়কে আরও দুর্বল করে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, শরীরের ছোট ছোট পরিবর্তনকে অবহেলা না করা। সময়মতো পরীক্ষা করালে এবং সচেতন থাকলে অস্টিওপোরোসিস অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।















