“গত কয়েক মাস ধরে বাড়ি থেকে কাজ করতে গিয়ে আমার শক্তি যেন তলানিতে। সারাক্ষণ মাথা ঘোরে, কাজে মন বসাতে পারি না — এটা কি স্বাভাবিক?” সমাজমাধ্যমে ভাইরাল এমন এক পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে তোলপাড়।

এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের এই সরল প্রশ্ন আসলে ছুঁয়ে গিয়েছে অগণিত কর্মীর যন্ত্রণাকে।
পাশের বহুতল আলো আটকে দেওয়ায় ঘরে কার্যত সূর্যালোক পৌঁছায় না। তাঁর কথায়, “সারাদিনে এক ফোঁটা রোদ গায়ে লাগে না।” তার উপর জীবনযাপন প্রায় স্থবির — মিটিং শুরুর ঠিক আগে ঘুম থেকে ওঠা, সারাদিন চেয়ারে বসে স্ক্রিন দেখা। তরুণের আশঙ্কা, ক্রমাগত ক্লান্তি ও মাথা ঘোরার নেপথ্যে ভিটামিন ডি বা আয়রনের ঘাটতি।


পোস্টে উঠে এসেছে আরও এক চিন্তার দিক।সহকর্মীদের সঙ্গে কথা হয় কোনও কাজ আটকে গেলে। নতুন কিছু শিখতে বসলেও কয়েকটি ক্লাসের পরেই একঘেয়েমি। বিচ্ছিন্নতা, একঘেয়েমি ও স্ক্রিন দেখতে দেখতে ক্লান্তি, তিনটি মিলে তৈরি হচ্ছে এক মানসিক চাপ।

গবেষণা বলছে, দীর্ঘ ওয়ার্ক-ফ্রম-হোমে ওজনবৃদ্ধি, ভুল ভঙ্গিতে বসার সমস্যা, মানসিক জড়তা ক্রমে বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, প্রাকৃতিক আলো শরীরে ভিটামিন ডি তৈরি এবং ঘুম-জাগরণের ছন্দ ঠিক রাখার জন্য অপরিহার্য। স্থবির জীবনযাপন ধীরে ধীরে পেশিশক্তি ও বিপাকহার দুর্বল করে দেয়।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রতিদিন অন্তত আধ ঘণ্টা সকালের রোদে হাঁটুন। কাজের ফাঁকে প্রতি ঘণ্টায় একবার উঠে দাঁড়ান। কাজের জায়গা যথাসম্ভব আলোকিত রাখুন। সহকর্মীদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথাবার্তা বলুন৷