পশ্চিম এশিয়ায় বাড়তে থাকা চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিশ্ব বাজারে জ্বালানির আকাশছোঁয়া দামের মাঝেও দেশের আমজনতার হেঁশেলে আপাতত স্বস্তি বজায় রইল। সোমবার, ১৮ মে রান্নার গ্যাসের দাম পুনর্নির্ধারণের পর দেখা গেছে, দেশের সমস্ত প্রধান মেট্রো শহরগুলিতে গৃহস্থালির রান্নার গ্যাসের (১৪.২ কেজি) দাম সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
2
8
গত মার্চ মাসে এক ধাক্কায় ৬০ টাকা দাম বাড়ার পর, বর্তমান মুদ্রাস্ফীতির বাজারে এই মূল্যবৃদ্ধিহীনতা মধ্যবিত্ত পরিবারগুলিকে বড়সড় স্বস্তি দিল। সোমবারের নতুন তালিকা অনুযায়ী, দেশের রাজধানী দিল্লিতে ঘরোয়া এলপিজি সিলিন্ডারের দাম রয়েছে ৯১৩ টাকা। তবে ঘরোয়া সিলিন্ডার স্বস্তি দিলেও, বাণিজ্যিক গ্যাসের বাজারে পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। গত কয়েক মাসে দফায় দফায় দাম বাড়ার জেরে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম দেশের প্রায় সর্বত্রই ৩,০০০ টাকার গণ্ডি পার করে গেছে।
রয়টার্স-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তেল বিপণন সংস্থাগুলির উৎপাদন খরচ ক্রমাগত বাড়লেও, দেশের সাধারণ মানুষকে মুদ্রাস্ফীতির ধাক্কা থেকে বাঁচাতে কেন্দ্র সরকার সচেতনভাবেই ঘরোয়া গ্যাসের দাম বাড়াতে দেয়নি।
5
8
এই স্বস্তির নেপথ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি সংস্থাগুলিকে এক চরম সংকটের মধ্য দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পশ্চিম এশিয়ায় শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধ, যার সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা এবং ইরানের পাল্টা আঘাত জড়িয়ে রয়েছে, তার ফলে বিশ্ব সাম্প্রতিক দশকগুলির মধ্যে সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি। ওমান উপকূলের হরমুজ প্রণালী—যার মধ্যে দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়—তা বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রের কারণে মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত।
6
8
এই চরম ঝুঁকির মাঝেই গত ১৩ মে হরমুজ প্রণালী পার করে কাতার থেকে ২০,০০০ মেট্রিক টন এলপিজি বহনকারী মার্শল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি সাইমি’ শনিবার রাতে গুজরাটের কান্ডলার দীনদয়াল পোর্ট অথরিটিতে এসে পৌঁছেছে। মার্চ মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ভারতের ১২টি এলপিজি ট্যাঙ্কার এবং একটি অপরিশোধিত তেলের ট্যাঙ্কারসহ মোট ১৩টি জাহাজ এই বিপজ্জনক জলপথ পার করেছে।
7
8
এই নজিরবিহীন সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে একগুচ্ছ কড়া ও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। আমদানির ওপর দেশের নির্ভরতা কমাতে এবং ভারতের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে প্রধানমন্ত্রী নাগরিকদের বেশ কিছু বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়ার অনুরোধ করেছেন। তিনি দেশবাসীকে যতটা সম্ভব ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজ করার, অপ্রয়োজনে জ্বালানি খরচ কমানোর এবং অন্তত আগামী এক বছর বিদেশ ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।
8
8
এর পাশাপাশি রান্নার তেলের ব্যবহার কমানো, প্রাকৃতিক ও জৈব চাষ পদ্ধতির দিকে অগ্রসর হওয়া, খাঁটি ‘স্বদেশী’ পণ্য গ্রহণ করা এবং সোনা কেনা সীমিত করার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রতিটি ভারতীয় পরিবারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, যাতে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিকেও সুরক্ষিত রাখা যায়।