রাশিয়ার নাম শুনলেই সাধারণত বরফে ঢাকা রাস্তা, ঠান্ডা আবহাওয়া আর ইউরোপীয় সংস্কৃতির কথা মনে পড়ে। কিন্তু সেই দেশেই রয়েছে এমন একটি প্রত্যন্ত গ্রাম, যেখানে ভোরবেলা ঘুম ভাঙে 'হরে কৃষ্ণ, হরে রাম' ধ্বনিতে।
2
10
মন্দিরে কীর্তন হয়, ভক্তিগান শোনা যায়, এমনকী স্থানীয় মানুষদের অনেকেই ভারতীয় সংস্কৃতি মেনে চলেন। এই অদ্ভুত অথচ সুন্দর পরিবেশ এখন ভারতীয় পর্যটকদের কাছেও বিশেষ আকর্ষণের জায়গা হয়ে উঠছে।
3
10
রাশিয়ার এই গ্রামে বহু বছর ধরে ইসকনের প্রভাব রয়েছে। ধীরে ধীরে গ্রামের অনেক মানুষ কৃষ্ণভক্তিতে আকৃষ্ট হন। এখন সেখানে প্রতিদিন নিয়ম করে পূজা, আরতি, গীতা পাঠ ও নামসংকীর্তন হয়। সকাল শুরু হয় ভজন আর ঘণ্টাধ্বনিতে।
4
10
এই গ্রামের পরিবেশ এতটাই শান্ত ও আধ্যাত্মিক যে সেখানে গেলে অনেকেরই মনে হতে পারে, যেন ভারতের কোনও আশ্রম এলাকায় এসে পৌঁছেছেন।
5
10
সবচেয়ে মজার বিষয় হল, এখানকার অনেক রুশ নাগরিক ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রাখেন। কেউ ধুতি বা কুর্তার মতো পোশাক পরেন, কেউ আবার নিরামিষ খাবার খান।
6
10
অনেকে সংস্কৃত মন্ত্রও সুন্দরভাবে বলতে পারেন। জন্মাষ্টমী, রথযাত্রা, হোলির মতো ভারতীয় উৎসবও সেখানে আনন্দের সঙ্গে পালন করা হয়। উৎসবের সময় গোটা গ্রাম রঙিন হয়ে ওঠে।
7
10
এই জায়গাটি শুধু ধর্মীয় কারণে নয়, পর্যটনের দিক থেকেও খুব আকর্ষণীয়। চারদিকে প্রকৃতির সৌন্দর্য, নিরিবিলি পরিবেশ আর ভিন্ন সংস্কৃতির অভিজ্ঞতা পর্যটকদের টানে।
8
10
যাঁরা শহরের ব্যস্ত জীবন থেকে কয়েকদিন দূরে শান্তিতে সময় কাটাতে চান, তাঁদের জন্য এটি দারুণ জায়গা হতে পারে। যোগব্যায়াম, ধ্যান বা আধ্যাত্মিক জীবন নিয়ে যাঁদের আগ্রহ রয়েছে, তাঁরাও এখানে বিশেষ অভিজ্ঞতা পাবেন।
9
10
ভারত থেকে সেখানে যেতে হলে প্রথমে রাশিয়ার রাজধানী মস্কো পৌঁছতে হবে। তারপর ট্রেন, বিমান বা গাড়িতে করে ওই অঞ্চলে যাওয়া যায়। যদিও যাত্রাপথ একটু দীর্ঘ, তবে সেখানে পৌঁছলে একেবারে অন্যরকম অভিজ্ঞতা অপেক্ষা করে।
10
10
বিদেশের মাটিতে ভারতীয় সংস্কৃতির এমন জনপ্রিয়তা সত্যিই অবাক করার মতো। রাশিয়ার এই ছোট্ট গ্রাম প্রমাণ করে দিয়েছে, ভক্তি আর সংস্কৃতির কোনও সীমান্ত নেই। পৃথিবীর যে কোনও প্রান্তেই মানুষের মনে জায়গা করে নিতে পারে ভারতীয় আধ্যাত্মিকতা।