আজকাল ওয়েবডেস্ক: রবিবার অশান্ত হয়ে ওঠে কলকাতার পার্ক সার্কাস এলাকা। গতকালে ঘটনার পরে সোমবার কলকাতা পুলিশের ডিসি অফিসে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জানা গিয়েছে, ‘ডার্ক জোন’ বলে চিহ্নিত যে এলাকাগুলি রয়েছে সেই এলাকার ডিসিদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। পার্ক সার্কাসে ডিসি অফিস সাউথ-ইস্ট ডিভিশন পরিদর্শ করেন এবং আহত পুলিশকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন শুভেন্দু। বৈঠক শেষে তাঁর হুঁশিয়ারি, “পার্ক সার্কাসই শেষ ঘটনা, বাংলায় এরকম ফের হলে আমার চেয়ে খারাপ পুলিশমন্ত্রী কেউ হবে না।”
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু বলেন, “হঠাৎ করে মানুষ জড়ো করে পাথড় ছোঁড়া শ্রীনগরে বন্ধ হয়ে গিয়েছে, কলকাতাতেও বন্ধ হওয়া দরকার। আমার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর বন্ধুরা অনেকেই কাল আহত হয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলাম। গোটা ফোর্স খুব ভাল কাজ করেছে কাল। সকলকে সমর্থন জানাতে এসেছিলাম। জনস্বার্থে আপনারা কাজ করবেন। মুখ্যমন্ত্রী আপনাদের সঙ্গে আছে। প্রশাসন আপনাদের পাশে আছে।”
বিক্ষোভকারীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে শুভেন্দুর আবেদন, “এই কাজগুলি করবেন না, এই কাজ থেকে বিরত থাকুন। আগের সরকারের মতো পুলিশকে হাত গুটিয়ে বসিয়ে রাখা হবে না। পুলিশমন্ত্রী হিসেবে শেষবার বলছি, একটা পুলিশের গায়ে হাত পড়লে এই সরকার যতদূর দরকার যাবে।” পুলিশকর্মীদের প্রতি বার্তা দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “বিএনএস যা বলেছে, নেতৃত্ব যে নির্দেশ দেবে সেই অনুযায়ী কাজ করবেন চিন্তামুক্ত হয়ে। কলকাতা পুলিশের গৌরব ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসন তাদের সঙ্গে আছে।”
এখানেই না থেমে আরও কড়া দাওয়াইয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “ইতিমধ্যেই ৪০ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। নগরপাল নিজে পরিস্থিতর উপর নজর রাখছেন। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে। পার্ক সার্কাসই শেষ ঘটনা। বাংলায় আর এরকম হবে না, যদি কেউ করেন, তাহলে আমার চেয়ে খারাপ পুলিশমন্ত্রী কেউ হবে না।”
প্রসঙ্গত, তিলজলায় বেআইনি নির্মাণ বুলডোজার দিয়ে ভাঙার প্রতিবাদে পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্টে জমায়েত করে রাস্তা অবরোধের চেষ্টা করে বিক্ষোভকারীরা। পুলিশ সেই অবরোধ তুলতে গেলে, তাঁদের ওপর হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। পুলিশকে লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু ইটবৃষ্টি করা হয়। হামলায় তিন পুলিশকর্মী আহত হন। এছাড়া পুলিশের তিনটি গাড়ি ও রাস্তায় থাকা বাসে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় উত্তেজিত জনতা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় যায় বিশাল সংখ্যক পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।












