নিজেকে একটু ভাল দেখাক, এমনটা কে না চায়! ‘বলো তো আরশি, কে বেশি সুন্দর?’ নাই বা বললেন। তা বলে আয়নায় নিজের চোখে নিজেই সুন্দর হয়ে ওঠার সাধ তো সকলেরই জাগে কমবেশি! তাই নয় কি?
কিন্তু একটা বয়সের পরে সে তো আর এমনি এমনি হওয়ার নয়। তার জন্য চাই নিজের একটু যত্নআত্তি— ত্বক, চুল-সহ সারা শরীরেরই ঠিকমতো পরিচর্যা। এদিকে, নিয়মিত পার্লার বা গ্রুমিংয়ে যে ছুটবেন, সে সময় কই আজকালকার ব্যস্ত জীবনে?
এখানেই আপনার মুশকিল আসান হয়ে উঠতে পারে কিছু গ্যাজেট। সে সব আপনাকে পার্লার, সালঁ বা জিমের মতো পেশাদারি গ্রুমিং করে দেবে না বটে, কিন্তু বাড়িতে কিছুটা পরিচর্যা বা যত্ন তো হতেই পারে। তাতে যদি বেশ খানিকটা ঝকঝকে হয়ে ওঠা যায়, ক্ষতি কী?
তা হলে কী কী থাকতে পারে আপনার ড্রেসিং টেবিলে?
এপিলেটার বা বডি ট্রিমার – আজকাল বহু মেয়েই হেয়ার রিমুভ করা চকচকে ত্বক ভালবাসে। চটজলদি সেই কাজটা করে দিচ্ছে এপিলেটর বা ট্রিমার। কেমিক্যাল রিয়্যাকশনের ভয় নেই। ব্যাটারি কিংবা চার্জেবল এই গ্যাজেটের সাহায্যে যখন খুশি, যেখানে খুশি সাফ করে ফেলা যাচ্ছে হাত-পা-মুখ বা শরীরের নানা অংশের অবাঞ্ছিত রোম।
বিয়ার্ড ট্রিমার এবং ইলেকট্রিক শেভার – ছেলেদের ক্ষেত্রে দাড়ি কাটা বা শেভিং খানিক সময়সাপেক্ষ ছিল আগে। সে কাজটা অনেকটাই সহজ করে দিয়েছে বিয়ার্ড ট্রিমার বা ইলেকট্রিক শেভার। ট্রিমার দিয়ে পছন্দের আকারে ইচ্ছেমতো দাড়ি কেটে নিতে পারেন যখনতখন। আর দাড়ি একেবারে সাফ করে ফেলতে চাইলে ইলেকট্রিক শেভারে সহজেই পেয়ে যান মোলায়েম শেভ। শেভিং ক্রিম মাখবেন নাকি মাখবেন না, সে-ও আপনার সিদ্ধান্ত।
ফেশিয়াল ব্রাশ – চারপাশে এখন যা দূষণমাত্রা, তাতে ত্বক ভাল রাখতে তার নিয়মিত পরিচর্যা না করলেই নয়। হাত দিয়ে ঘষে ঘষে সাবান-ক্লেনজারে মুখ পরিষ্কারের কাজে এখন সহায় হতেই পারে ফেশিয়াল ব্রাশ। সাবান-বিহীন ক্লিনারের সাহায্যে এই ব্রাশগুলো অনেক সহজে আপনার ত্বক থেকে সরিয়ে দেয় ধুলো-ময়লার পরত। তারপরে ত্বকের বাকি পরিচর্যার রুটিন জারি রাখলেই হল!
হট এয়ারব্রাশ – বহু পুরুষেরই পছন্দ সেট করা চুল। সালঁ নয়, এখন কিন্তু বাড়িতেই সে কাজটা করে দিতে পারে হট এয়ারব্রাশ। হেয়ার ড্রায়ার এবং স্টাইলিং ব্রাশের যুগলবন্দিতে এই গ্যাজেট আপনাকে ঝটিতি এনে দিতে পারে পছন্দসই লুক।
টোনিং বেল্ট – নির্মেদ, ঝরঝরে শরীর কে না চায়! সিক্স প্যাক অ্যাবের স্বপ্নও অধরা থেকে যায় অনেকেরই। স্রেফ জিমের জন্য সময় বার করতে না পারার ঝামেলায়। এ কাজটাতেই আপনার সঙ্গী হয়ে উঠতে পারে টোনিং বেল্ট। অ্যাপ-নির্ভর এই বেল্টগুলো আপনার মাসল টোনিং করে দেবে বাড়িতেই। তবে অবশ্যই ব্যবহারের আগে অবশ্যই চিকিৎসক বা ফিজিক্যাল ট্রেনারের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না।
ইলেকট্রিক টুথব্রাশ এবং ফ্লস – ঝকঝকে হাসিতে বরাবরই মাত হয় দুনিয়া। আর সে হাসির নেপথ্যে থাক সঠিক টুথব্রাশ এবং ফ্লস। রোজ সকাল বা রাতের সেই রুটিনেও এখন গ্যাজেট হাজির। ইলেকট্রিক টুথব্রাশ বা ইলেকট্রিক ফ্লসারের দৌলতে আপনার দাঁত সাফ করা সম্ভব আরও কোনায় কোনায় পৌঁছে। প্রাপ্তি? আরও ঝলমলে হাসি!
ফেস স্টিমার – সওনায় আপনার মুখের ত্বক কেমন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে না? সেই আর্দ্রতা এবার অনেক সহজেই পেতে পারেন ফেস স্টিমার দিয়ে। হাল্কা ওজনের এই মাইক্রো স্টিমারগুলোয় জল ভরে ফোটালেই হল। গরম বাষ্পের ভাপে আপনার ত্বক হয়ে উঠবে আরও তরতাজা।
হেয়ার কার্লার বা স্ট্রেটনার – কে বলেছে চুল স্ট্রেট বা কোঁকড়া করে তুলে আরও নজরকাড়া হতে এখনও পার্লারে ছুটতে হবে? বাড়িতেই আপনাকে পছন্দের হেয়ার স্টাইল করে দিতে পারে হেয়ার কার্লার এবং স্ট্রেটনার। চাই শুধু হাতে খানিকটা সময় আর সাবধানতা। ব্যস!
এবার আপনাকে আর পায় কে!














