গরম পড়লেই আমরা সাধারণত দিনের তাপমাত্রা নিয়েই বেশি ভাবি। দুপুরের রোদ, লু বা প্রচণ্ড গরম থেকে কীভাবে বাঁচা যায়, সেই চিন্তাই থাকে সবার মাথায়। কিন্তু এখন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের জন্য আরও বড় বিপদ হয়ে উঠছে রাতের গরম। কারণ দিনের পর রাতেও যদি তাপমাত্রা না কমে, তাহলে শরীর ঠিকমতো বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ পায় না। আর সেখান থেকেই বাড়ছে নানা শারীরিক সমস্যা।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ভারতের অনেক শহরে রাতের তাপমাত্রা আগের তুলনায় অনেক বেশি বেড়ে গিয়েছে। আগে যেখানে রাত নামলে কিছুটা ঠান্ডা হাওয়া পাওয়া যেত, এখন অনেক জায়গায় গভীর রাতেও গরম কমছে না। বিশেষ করে মুম্বই, দিল্লি, কলকাতা, চেন্নাইয়ের মতো বড় শহরে এই সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনের বেলায় কংক্রিটের বাড়ি, রাস্তা ও উঁচু বিল্ডিং প্রচুর তাপ শুষে নেয়। পরে সেই তাপ ধীরে ধীরে রাতে বের হয়। ফলে রাতেও চারপাশের পরিবেশ গরমই থেকে যায়। এই কারণেই শহরাঞ্চলে রাতে স্বস্তি মিলছে না। একে বলা হয় 'আরবান হিট আইল্যান্ড' প্রভাব।
রাতের গরম শরীরের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। সাধারণত রাতে শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা কমে এবং শরীর বিশ্রাম নেয়। কিন্তু ঘুমের সময়ও যদি অতিরিক্ত গরম থাকে, তাহলে শরীর ঠিকভাবে ঠান্ডা হতে পারে না। এতে ঘুমের সমস্যা, মাথাব্যথা, ক্লান্তি, ডিহাইড্রেশন, দুর্বলতা এমনকি হার্টের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন বয়স্ক মানুষ, শিশুরা এবং যাঁদের বাড়িতে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা নেই। অনেকের পক্ষে সারারাত এসি চালানোও সম্ভব হয় না। ফলে গরমে ঘরের মধ্যেই রাত কাটাতে হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, একটানা কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি চললে শরীরের উপর চাপ অনেক বেড়ে যায়।
পরিবেশবিদদের দাবি, অতিরিক্ত গাছ কাটা, জলাশয় কমে যাওয়া এবং দ্রুত নগরায়নের কারণেই এই সমস্যা বাড়ছে। শহরে খোলা জায়গা কমে গিয়ে চারদিকে শুধু কংক্রিটের ব্যবহার বাড়ছে। এর ফলে রে আরও বেশি আটকে থাকছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকা খুব জরুরি। প্রচুর জল খেতে হবে, রাতে হালকা খাবার খাওয়া ভাল, ঘরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং সম্ভব হলে ঘর ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করতে হবে। পাশাপাশি শহরে আরও বেশি গাছ লাগানো এবং পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনার উপর জোর দেওয়ার কথাও বলা হচ্ছে।
দিনের গরম যতটা ভয়ঙ্কর, রাতের এই বাড়তে থাকা তাপমাত্রাও এখন ততটাই চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে। তাই শুধু দিনের রোদ নয়, রাতের গরম থেকেও সাবধান থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।















