লুডোতে সাপ-সিঁড়ির খেলার প্রবর্তক এক সন্ন্যাসী, খেলাচ্ছলে কোন জীবনদর্শন বুঝিয়েছিলেন?
নিজস্ব সংবাদদাতা
২০ মে ২০২৬ ১৫ : ৩৭
শেয়ার করুন
1
11
রবিবার দুপুর, অথবা বৃষ্টিভেজা সন্ধে সাপ-লুডো ছাড়া অসম্পূর্ণ। বিছানার চাদরে পেতে দেওয়া রঙচঙে বোর্ড, কড়ি বা ছক্কা। তারপর হঠাৎ এক বড় সাপের মুখে পা পিছলে ৯৯ থেকে নেমে আসা ৩-এ। আনন্দ-আক্ষেপের মিশেলে রয়েছে আধ্যাত্মিক দর্শন।
2
11
আসল নাম ছিল ‘মোক্ষপটম’। আজকের ‘সাপ-সিঁড়ি’ খেলাটির আসল নাম ছিল ‘মোক্ষপটম’। কোথাও ‘পরমপদম’, আবার কোথাও ‘জ্ঞান চৌপড়’।
3
11
সিঁড়ি মানে পুণ্য, সাপ মানে পাপ। তেরো শতকে এক মারাঠি সন্তের হাতে তৈরি এই বোর্ড আজ গোটা পৃথিবীর শিশুমন মাতিয়ে রাখে৷ এই খেলার নেপথ্যে কর্ম, ধর্ম ও মোক্ষের গভীরতম পাঠ।
4
11
ইতিহাসবিদদের একটি বড় অংশের মতে, ত্রয়োদশ শতকের প্রসিদ্ধ মারাঠি সন্ত-কবি জ্ঞানদেব বা জ্ঞানেশ্বরই এই খেলাটি প্রবর্তন করেন। অনেকের ধারণা, খেলার শিকড় আরও গভীরে — খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকেও এর উল্লেখ মেলে।
5
11
উদ্দেশ্য ছিল একটাই — শিশুদের সরল ভাষায় বুঝিয়ে দেওয়া কর্মফলের নিয়ম: পুণ্য মানুষকে উপরে তোলে, পাপ আবার নীচে টেনে নামায়।
6
11
প্রতিটি সিঁড়ির গোড়ায় আঁকা থাকত একটি গুণ — দান, ভক্তি, বিনয়, সত্যবাদিতা, ক্ষমা। আবার প্রতিটি সাপের মুখে আঁকা একটি বিকার — অহংকার, ক্রোধ, লোভ, কাম, মদ্যপান।
7
11
বোর্ডের শীর্ষে থাকতেন স্বয়ং বিষ্ণু — অর্থাৎ বৈকুণ্ঠ। কোনও কোনও সংস্করণে শীর্ষে কৈলাস, মহাদেব-পার্বতী-গণেশ-কার্তিক। লক্ষ্য ছিল, কর্মফলের ওঠানামা পেরিয়ে সেই পরমধামে পৌঁছানো — চূড়ান্ত মোক্ষলাভ।
8
11
মূল হিন্দু সংস্করণে সিঁড়ির চেয়ে সাপের সংখ্যা ছিল ঢের বেশি। কারণ পুণ্য অর্জনের চেয়ে পাপে পতিত হওয়া অনেক সহজ।
9
11
হিন্দু সংস্করণে ৭২টি ঘর, জৈন সংস্করণে ৮৪। কড়ি দিয়েই চাল চলত, প্রতিটি ঘরে আঁকা থাকত নৈতিক পাঠ।
10
11
১৮৯২ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকেরা খেলাটি ইংল্যান্ডে নিয়ে যান। সেখানে ভিক্টোরীয় মূল্যবোধের সঙ্গে খাপ খাইয়ে বিষ্ণু-কৈলাস উধাও হল, রইল শুধু সাপ আর সিঁড়ি। সংখ্যাও সমান করে দেওয়া হল।
11
11
১৯৪৩ সালে আমেরিকান সংস্থা মিল্টন ব্র্যাডলি এর নাম রাখে ‘চিউটস্ অ্যান্ড ল্যাডার্স’। ভারতের গভীর আধ্যাত্মিক দর্শন তখন নিছক শিশুতোষ বিনোদনে পরিণত।