ঘাড়ে হালকা অস্বস্তি হলেই অনেকে অভ্যাসবশত ঘাড় মটকান বা নিজে নিজে ‘অ্যাডজাস্ট’ করেন। কেউ আবার ‘ক্র্যাক’ করলে আরাম লাগে ভেবে নিয়মিত এই কাজ করেন। কিন্তু জানেন কি এই অভ্যাস প্রাণঘাতী হতে পারে, এমন সতর্কবার্তা দেন চিকিৎসকেরা। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ঘাড় মটকানোর কারণে একাধিক মানুষ স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন। যার মূল কারণ, ঘাড়ের ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ ধমনিতে ছিঁড়ে যাওয়ার ঘটনা।
চিকিৎসকদের মতে, ঘাড় হঠাৎ জোরে ঘোরানো বা মটকানোর সময় ঘাড়ের ভেতরে থাকা ভার্টিব্রাল ও ক্যারোটিড ধমনিতে ক্ষতি হতে পারে। এই ধমনিগুলিই মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ করে। ধমনি ছিঁড়ে গেলে সেখানে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে, যা পরে মস্তিষ্কে পৌঁছে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। অনেক ক্ষেত্রে এই স্ট্রোক মারাত্মক, এমনকী প্রাণঘাতীও হতে পারে।
সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় দেখা গিয়েছে, ২৯ বছর বয়সি এক তরুণী ঘাড়ে ব্যথা অনুভব করায় নিজেই ঘাড় মটকান। কিছুক্ষণের মধ্যে তিনি অস্বাভাবিক দুর্বলতা অনুভব করেন এবং কথা বলায় সমস্যা শুরু হয়। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা জানান, তাঁর ঘাড়ের একটি ধমনি ছিঁড়ে গেছে এবং এর জেরেই স্ট্রোক হয়েছে। এই ঘটনার ফলে ওই তরুণী আংশিকভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘাড়ের ভেতরের রক্তনালিগুলি অত্যন্ত সংবেদনশীল। হঠাৎ বা জোরালো নড়াচড়া এই নালিগুলির দেওয়ালে ক্ষত তৈরি করতে পারে। অনেক সময় উপসর্গ সঙ্গে সঙ্গে বোঝা যায় না। কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিন পর মাথা ঘোরা, তীব্র মাথাব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসকেরা পরামর্শ দেন, নিজে নিজে ঘাড় মটকানো বা ইউটিউব দেখে ঘাড় ‘ক্র্যাক’ করা থেকে বিরত থাকুন। ঘাড়ে দীর্ঘদিন ব্যথা বা অস্বস্তি থাকলে চিকিৎসক, ফিজিওথেরাপিস্ট বা অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন। এক্ষেত্রে সঠিক ব্যায়াম, শরীরী ভঙ্গি ঠিক রাখা এবং প্রয়োজনীয় থেরাপির মাধ্যমে ঘাড়ের সমস্যার সমাধান সম্ভব।
সামান্য আরাম পাওয়ার জন্য ঘাড় মটকানো ভবিষ্যতে বড় বিপদের কারণ হতে পারে। তাই সময় থাকতে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
