মুখের ক্যানসার মুখের বিভিন্ন জায়গা যেমন ঠোঁট, জিভ, দাঁতের মাড়ি, গালের ভিতর বা মুখের ভিতরে (সাধারণত স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা) হয়। বিভিন্ন ধরনের তামাক, পান-সুপারি, মদ এই সমস্ত অতিরিক্ত মাত্রায় খেলে মুখের ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। যাঁরা নিয়মিত মদ্যপান করেন, অথবা যাঁরা মদ এবং তামাক একসঙ্গে খান তাঁদের ক্ষেত্রে ওরাল ক্যানসারের ঝুঁকি আরও বেশি৷
গবেষণায় দেখা গেছে, ভারতে ৬০% এরও বেশি ওরাল ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীরা নিয়মিত মদ্যপান করেন এবং ধোঁয়াহীন তামাক সেবন করেন৷ মুখের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ৬২% ক্ষেত্রে তামাক এবং অ্যালকোহলের কারণে হয়৷ তামাক এবং মদের মধ্যে মুখের ক্যানসারের ক্ষেত্রে মদ ভয়াবহ প্রভাব বিস্তার করে৷
অ্যালকোহল অ্যাসিটালডিহাইড তৈরি করে, যা একটি বিষাক্ত পদার্থ। এই বিষাক্ত পদার্থ মুখের ভিতরের কোষের ডিএনএকে ধ্বংস করে৷ এটি টিস্যুগুলিকে নষ্ট করে দেয়৷ এর ফলে ক্ষতিকারক পদার্থ খুব সহজেই মুখের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে৷
মুখের ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ
১.মুখে বা জিভে ঘা হলে সাধারণত ১–২ সপ্তাহে সেরে যায়। কিন্তু দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ঘা থাকলে তা সতর্কতার লক্ষণ হতে পারে।
২. মুখের ভেতরে সাদা (leukoplakia) বা লাল দাগ দেখা যেতে পারে। এগুলো অনেক সময় ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ।
৩. গাল, মাড়ি বা গলার কাছে অস্বাভাবিক ফোলা অনুভব হতে পারে।
৪.খাবার গিলতে কষ্ট হওয়া, চিবোতে গেলে ব্যথা, গলায় কিছু আটকে আছে এমন মনে হলে তা মুখের ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে৷
৫. জিভ বা ঠোঁটে ঝিনঝিন ধরা বা অবশ অনুভূতি হতে পারে।
৬. হঠাৎ করে দাঁত নড়তে শুরু করা, দাঁত আলগা হয়ে খুলে আসা কোনও কোনও ক্ষেত্রে ক্যানসারের কারণ হতে পারে৷
ডেন্টারের ফিটিং বদলে যাওয়া
৭. দীর্ঘদিন ধরে কাশি বা গলা ব্যথা রয়েছে৷ সেই সঙ্গে ধীরে ধীরে গলার স্বর বদলে গেলেও মুখে ক্যানসার হতে পারে৷
৮. মুখে ক্যানসার হলে টিস্যুগুলি ক্রমশ শক্ত হয়ে যেতে শুরু করে৷ যদি দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে মুখের ভিতরে স্থায়ী কোনও শক্ত মাংসপিণ্ডের মতো অনুভব হয় তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব পরামর্শ করা প্রয়োজন।
