আজকাল ওয়েবডেস্ক: তীব্র গ্যাস সঙ্কট। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রকে কটাক্ষ করলেও, পরিস্থিতি বিচারে তৎপর মমতা ব্যানার্জি। বুধবার সকালেই তিনি একাধিক সংবাদ মাধ্যমে বর্তমান পরিস্থিতিতি প্রেক্ষিতে মন্তব্য করেন। তার ঘণ্টাখানেক পরেই, বুধবারেই তেল সংস্থা, গ্যাস ডিলারদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক সারেন তিনি এবং ঠিক তারপরেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। সূত্রের খবর, মমতা ব্যানার্জি বুধবার একাধিক গ্যাস ডিলার এবং তেল সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একগুচ্ছ প্রসঙ্গের উত্থাপন করেন।
বৈঠকের শুরুতেই তিনি জানান, সামাজিক গৃহস্থ ঘর, আইসিডিএস, হোস্টেল, মিড-ডে মিল, স্বাস্থ্য-সহ একাধিক খাতে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে গ্যাস সঙ্কটের। পরিস্থিতি বিচারে, সেই কারণেই বুধে বৈঠকে বসেন তিনি। তিনি বলেন, 'এটা ঠিক একটা প্যানিক তৈরি হয়েছে। সেই কারণে মানুষ ভাবছে আমার একটা গ্যাস আছে, যদি ফুরিয়ে যায়, তাহলে একটা গ্যাস পেতে ২৫ দিন লাগবে, এটা চিন্তার বিষয়। এখনও তেল-ডিজেলের সমস্যা হয়নি, এখন সমস্যা গ্যাসের।'
বৈঠকে কী আলোচনা, কী সিদ্ধান্ত?
মমতা জানালেন, 'আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমরাও একটা এসওপি তৈরি করব। মানুষকে জানানোর জন্য। আমরা অনুরোধ করেছি, এখানে যে গ্যাস তৈরি হয়, এই সঙ্কটের সময়ে তা বাইরে পাঠাবেন না। কারণ বাইরের লোক তো আমাদের দেবে না।' পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে, আবার পাঠানোর কথা বলেছেন বলেও জানান। বলেন, আগে তো নিজেদেরর ঘর সামলাতে হবে।' সঙ্গেই তিনি বলেন, 'আমরা অনুরোধ করেছি যেন মিড-ডে মিলে, হাসপাতালে, হোস্টেলগুলিতে, পরিবারগুলিতে সমস্যা না হয়। আমরা রেস্তোরাঁ, হোম ডেলিভারি করেন যাঁরা তাঁদের কথা বলেছি। আলোচনা থেকে বেরিয়ে এসেছে, মিড-ডে মিলে, আইসিডিএস সেন্টারে কোনও অসুবিধে হবে না, ওঁরা তাই বলেছেন।' মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আলোচনা সদর্থক বলেই মনে করছেন তিনি। আগামিকাল ফের বৈঠক রয়েছে তাঁর।
এর আগে, বুধবার একটি বাংলা সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশ জুড়ে তৈরি হওয়া এলপিজির আকাল নিয়ে কেন্দ্রকে তোপ দাগেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। সম্প্রতি দু’টি গ্যাস বুকিংয়ের মধ্যে ব্যবধান বাড়িয়ে ২৫ দিন করেছে কেন্দ্র। সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ কেন কেন্দ্র বলে দিল ২৫ দিন না হলে গ্যাস পাবে না? পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের কাছে দাবি, এসআইআরের দিকে না তাকিয়ে, গ্যাসের সমস্যা মেটান। অটো, আইসিডিএস, মিড ডে মিল, বাড়ির রান্নার গ্যাস, ছোটখাটো রেস্তরাঁর সমস্যা মেটাতে হবে। আগে মানুষের কথা ভাবা দরকার। এটা কেন্দ্রের হাতে। আমরা চাই, দ্রুত কেন্দ্রীয় সরকার পদক্ষেপ করুক।”
